ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক বাগানে ফুটেছে দৃষ্টিনন্দন দুর্লভ মে ফ্লাওয়ার ফুল। পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ও শৌখিন বাগানপ্রেমী সাবেক কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহম্মদ খানের বাগানে এ দুর্লভ ফুল ফুটেছে।
ফুলটি ঘ্রাণহীন হলেও এর সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ছে। ইতোমধ্যে ফুল ফোটার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন দেখতে আসছেন। দৃষ্টিনন্দন এ ফুল দেখে অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও সেলফি তুলছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেবগ্রাম এলাকার ইকবাল আহম্মদ খান একজন শৌখিন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। তার বাড়িতে দেশি-বিদেশি নানা প্রকারের ফল-ফুলের গাছ রয়েছে। গত প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজ বাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পরিবেশবান্ধব নানা ধরনের গাছ লাগিয়ে আসছেন।
মূলত শখের বসেই তিনি এসব গাছ রোপণ করেছেন। তার বাগানে লাগানো কয়েকটি মে ফ্লাওয়ার গাছে এখন ফুল ফুটেছে, যা সবার নজর কাড়ছে।
মূলত মে মাসে মে ফ্লাওয়ার ফুল প্রকৃতিতে তার অস্তিত্ব ও সৌন্দর্য প্রকাশ করে। বছরের অন্য সময় এই ফুল সাধারণত ফোটে না। ফায়ার বল, বল লিলি, গ্লোব লিলি, আফ্রিকান ব্লাড লিলি ইত্যাদি নামেও এই ফুল পরিচিত। ফুল ফোটার ব্যাপ্তি মে মাসজুড়েই সীমিত। এ ফুলের আয়ু প্রায় এক সপ্তাহের বেশি নয়।
সাধারণত মে মাসে ফুটে বলে এটিকে মে ফ্লাওয়ার বলা হয়। ফুল ফোটার কিছুদিন পর গাছটি মাটিতে মিলিয়ে যায়। গ্রীষ্মের আগমনে মাটি ভেদ করে ফুলের ডাঁটা বের হয়, কুঁড়ি জন্মে এবং মে মাসের শুরু থেকেই উজ্জ্বল লাল রঙের মাঝে হলুদ-সাদা আভা মিশ্রিত গোলাকার বল আকৃতির ফুল ফোটে।
গড়নে এটি কদম ফুলের মতো হলেও আকারে তুলনামূলক বড়। ফুলটি গন্ধহীন হলেও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। পাপড়ি ও পুংকেশর অসমান। রক্তিম শোভায় এই ফুল প্রকৃতিতে দারুণ সৌন্দর্য ছড়ায়।
স্থানীয়রা জানান, ইকবাল আহম্মদ খান একজন সৌখিন ও গাছপ্রেমী মানুষ। গাছ লাগানো তার একটি নেশা। তার বাড়িতে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফুল-ফলের গাছ রয়েছে।
বাগানের মালিক ইকবাল আহম্মদ খান বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার ফুল-ফলসহ অন্যান্য গাছ লাগানোর শখ রয়েছে। সেই শখ থেকেই গাছ লাগিয়ে আসছি। আমার বাগানে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুল-ফলের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মে ফ্লাওয়ার গাছও রয়েছে। এসব গাছে কমবেশি ফুল ফুটেছে।
তিনি আরও বলেন, মে ফ্লাওয়ারের আদি নিবাস আফ্রিকা হলেও আমাদের আবহাওয়ায় এই গাছ ভালোভাবে মানিয়ে যায়। তাই সৌন্দর্য উপভোগের জন্যই এসব গাছ লাগানো হয়। মে ফ্লাওয়ার বেশি দিন স্থায়ী থাকে না। ফুল ঝরে যাওয়ার পরও কিছুদিন পাতার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন