যশোরের বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় সাদিপুর মাঠে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা কথিত বাংলাদেশিদের তিন দিন পর মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ। এতে উত্তেজনা কমেছে সীমান্তে। তবে তারা অন্য সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে না ওপারে অবস্থান করছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিজিবির দাবি, বেনাপোল সীমান্ত পথে বিজিবির কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিয়েছে।
বুধবার সকালে সীমান্ত থেকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ব্যক্তিদের বিএসএফ সরিয়ে নিলে উত্তেজনা কমে আসে। এদিকে শূন্যরেখা থেকে ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার পর সীমান্ত থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির অতিরিক্ত সদস্যও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ওই এলাকায় স্বাভাবিক টহল চলছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সাদিপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পুশইনকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় বেশ কয়েকজন মানুষ আটকে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ উদ্দেশ্যে তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখা হয়। খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবস্থান করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা।
তবে আটকে থাকা ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নাগরিকত্বের এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় বিজিবি। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
এর আগে রোববার (৩১ মে) রাতে বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে শতাধিক মানুষকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সীমান্তের ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র জানায়।
এদিকে অবৈধ পুশইনের আশঙ্কায় বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বেনাপোলের সাদীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু জানান, সীমান্তে এখন আর ভিড় করা মানুষজনদের দেখা যাচ্ছে না। তবে বিএসএফ অন্য সীমান্ত পথে তাদের ঢোকাতে পারে। তাই বিজিবিকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশপ্রেমের জায়গা থেকে গ্রামবাসী সার্বিক সহযোগিতা করছে বিজিবিকে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, বিএসএফ যদি প্রচলিত নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাউকে ফেরত পাঠায়, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গ্রহণ করা হবে। কিন্তু কোনো নিয়মনীতি না মেনে জোরপূর্বক কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। মঙ্গলবার বিকেল থেকে সীমান্তে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ব্যক্তিদের বিএসএফ সরিয়ে নেওয়ায় তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তবে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন