× UCB Sticker Card
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

একটি ঘরের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শেফালী আক্তার

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের ফুলপুরে একটি ঘরের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শেফালী আক্তার। শেফালী আক্তার এক বিধবা বয়স্কা নারী। উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কাইচাপুর উত্তরপাড়া এলাকায় স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন একটি ভাঙা ঘরে বসবাস তিন সন্তানের জননী এই শেফালী আক্তারের। তার স্বামীর একটু ভিটে থাকলেও নেই থাকার মত একটি ঘর। 

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, শেফালী আক্তারের যে ঘরটি আছে এর উপরে নিচে সবদিক দিয়েই টিন ভাঙা ও ছিদ্র। বৃষ্টির সময় চতুর্দিক দিয়ে শরীরে পানি পড়ে। মধ্য রাতে বৃষ্টি আসলে বিছানা গুছিয়ে মাথার উপর পলিথিন দিয়ে বসে থাকতে হয়। এই কষ্ট দীর্ঘদিন ধরে। স্বামী মরার পর থেকেই। 

২০১২ সনের ৮ আগস্টে তার স্বামী হাফেজ মাওলানা বদরুল আলম ইন্তেকাল করেন। এরপর থেকেই জীবন তার দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বদরুল আলম একজন আল্লাহওয়ালা দীনদার মানুষ ছিলেন। তিনি সিলেটের বালাগঞ্জে দীর্ঘদিন ইমামতি করেছেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১টি মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন। কিন্তু স্বল্প বেতনে চাকরি করায় কোনকিছু রেখে যেতে পারেননি। বড় ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ তামজিদ ও ছোট ছেলের নাম খালিদ মাসউদ তাহমিদ। ওরা দুজনই কিছুটা বাক প্রতিবন্ধী। মুখে জড়তা আছে। কথা গুছিয়ে বলতে পারেন না। বড় ছেলেটি বিয়ে করেছে। ছোটটাও বিয়ের উপযুক্ত কিন্তু তাদের বাড়ি কাইচাপুর কোন পাড়ায় জিজ্ঞেস করলে বলতে পারেনি। তার মায়ের নিকট থেকে জেনে বলেছে যে, উত্তরপাড়ায়। মেয়েটির নাম ফাতেমাতুজ্জোহরা। তার বিয়ে হয়ে গেছে।

স্বানীর মৃত্যুর পর থেকে আয় রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেফালী আক্তার অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন। সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো তার থাকার মত একটি ঘর নেই। নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য একটি ঘর না থাকায় প্রতিনিয়ত তাকে পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তার দুর্ভোগ এতটাই বেড়ে যায় যে, রাত কাটে ঘর মুছতে ও চোখ মুছতে মুছতে। 

এমতাবস্থায় মানবিক সহায়তা ও একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের আশায় দিন কাটছে তার। শেফালী আক্তার একজন আলেম ও ইমামের স্ত্রী হিসেবে শরয়ী পর্দা করেন। জানতে চাইলে তিনি পর্দার আড়াল থেকে বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আয় ইনকাম নাই। টাকা পয়সার অভাবে একের পর এক দুঃখ কষ্ট যেন পিছু ছাড়ছে না। মানবেতর জীবনযাপন করছি। কিন্তু শত কষ্টের মধ্যেও কারো কাছে হাত বাড়াইনি। এখন আপনারা হয়তো কোন মাধ্যমে আমার দূরাবস্থার কথা জানতে পেরেছেন। আল্লাহ তায়ালা আপনাদের উসীলায় একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে খুশি হবো।

স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী বলেন, অসহায় এই নারীর জন্য দ্রুত একটি বসতঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তারা এমপি ও ইউএনওসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইউসুফের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত আমাদের হাতে কোন ঘর নেই। তবে দেখা যাক, উনার জন্য কতটুকু কি করা যায়। আমি ওই ইউনিয়নের প্রশাসককে বলে দিচ্ছি তিনি বিষয়টি দেখবেন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে অসহায় শেফালী আক্তারের জন্য তিনি কিছু খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!