× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেলে তিন মাসে হাম-উপসর্গে ৫০ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রায় তিন মাসে হাসপাতালটিতে হাম-উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্য দাড়িয়েছে ৫০ জনে।

শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুটি ১০ মাস বয়সী ছেলে। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। গত ২ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে তাকে মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। টানা ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার ১২ জুন তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের ডেথ সার্টিফিকেট অনুযায়ী, শিশুটির মৃত্যুর কারণ ‘সাসপেক্টেড হামের পাশাপাশি সেপটিক শক, নিউমোনিয়া এবং বাঁ ফুসফুসে পানি জমা।

গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৯ শিশু হয়েছেন। তবে এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেনি কেউ। বর্তমানে হাসপাতালটিতে সর্বমোট ১০০ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত ১৭ মার্চ থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী হাসপাতালে সর্বমোট ২ হাজার ৬২ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ৯১২ জন। তবে এর বিপরীতে মৃত্যুর হার অর্ধশত স্পর্শ করায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসক ও অভিভাবকেরা।

সম্প্রতি গাজীপুর শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা চা দেকানি পারভেজ মোশাররফের সন্তান রাফসান জ্বর ও নিউমোনিয়া দেখা দিলে শুরু হয় ছোটাছুটি। ২৬ এপ্রিল হামের টিকা দেওয়ার পর ফের তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। মাওনা আল হেরা হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। এরপর থেকে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছিল শিশুটি। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না।

সন্তান হারানো বাবা পারভেজ মোশাররফের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠে হাসপাতাল। বিলাপ করে তিনি বলছিলেন, ছেলেকে বাঁচাতে চেষ্টার কমতি রাখিনি। আক্ষেপ শুধু একটাই, যদি একটা আইসিইউ থাকত, তাহলে হয়তো আমার কোল খালি হতো না। বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

হাসপাতাল আইসিইউর বিকল্প হিসাবে প্লাস্টিকের একটি পানির বোতলের সাহায্যে বিশেষ পদ্ধতিতে যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। যন্ত্রটি শিশুটির শয্যার নিচে রাখা হয়। বোতলে পানি ও সেটিতে একটি নল লাগানো। যার মাধ্যমে হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে শিশুটির নাক দিয়ে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে।

শিশুদের আইসিইউ না থাকায় হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের যখন অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং আইসিইউয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়, তখন বিকল্প হিসেবে বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করার কথা জানান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক মাজহারুল আমিন।

তিনি বলেন, বাবল সিপ্যাপ তৈরিতে সরকার প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং বাবল সিপ্যাপ সরবরাহ করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী যে বাচ্চাদের অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, স্বাভাবিক অক্সিজেনে যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা কমে যায়, সেই বাচ্চাদের সাধারণত বাবল সিপ্যাপ দিয়ে থাকেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচাতে আমাদের চিকিৎসকেরা দিনরাত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালে আসা রোগীদের একটি বড় অংশই একদম শেষ মুহূর্তে, যখন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে, তখন ভর্তি হচ্ছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটির ক্ষেত্রেও হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া এবং সেপটিক শকের মতো মারাত্মক জটিলতা ছিল।

শিশুদের তীব্র জ্বর এবং শরীরে র‍্যাশ বা গুটি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচাৱক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, আমরা আইসিইউ'র জন্য আবেদন করেছি। সরকার থেকে বরাদ্ধ পেলেই আইসিইউ স্থাপন করা হবে। তবে, এতে জনবল সঙ্কটসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

Link copied!