জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সারাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে মানুষের জীবনে অন্তত তিন ভাগের এক ভাগ শান্তি ফিরে আসবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্য কিছু নয়, আগে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের পুরাতন কাচারী এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত বার্ষিক রুকন সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে সংসদ জনগণের কল্যাণ ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করবে না, সেই সংসদে এক সেকেন্ডও থাকার প্রয়োজন নেই। আমরা সরকারকে সময় দিতে চাই, কিন্তু অনন্তকাল নয়। সরকার সদিচ্ছার পরিচয় দিক, প্রথমেই চাঁদাবাজি বন্ধ করুক। দেশের মানুষ জানে কারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কোনো একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ নেই। এটি ছিল দেশের সাধারণ মানুষের আন্দোলন। যারা পরবর্তীতে আন্দোলনের কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণই ছিল এই আন্দোলনের মূল শক্তি।
জাতিসংঘের তথ্য উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ২০২৪ সালে অন্তত ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দলীয় পরিচয় বা ধর্ম না দেখে তাদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে জামায়াত। শহীদরা কোনো দলের নয়, তারা জাতির সম্পদ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, জনগণ আশা করেছিল চাঁদাবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি, দলীয়করণ ও ক্ষমতার অপব্যবসানের রাজনীতি থেকে দেশ মুক্ত হবে। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন এবং জনগণের ইচ্ছাতেই ক্ষমতায় আসবেন ও বিদায় নেবেন—এমন প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫০-৬০টি পণ্যে কর কমানো হলেও বাজারে কোনো নিত্যপণ্যের দাম কমেনি। কারণ সর্বত্র সিন্ডিকেট কাজ করছে। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এসব সিন্ডিকেট টিকে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, কর ছাড়ের সুফল যদি সাধারণ মানুষ না পায়, তাহলে সেই সুবিধা কারা ভোগ করছে, সেটিই প্রশ্ন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের পরিচালক ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। জেলা জামায়াতের আমির আ. জ. ম. রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন রাজির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা ও স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


