বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং খাতের কর বৈষম্য দূর ও টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি ও প্রস্তাব পেশ করেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী ভ্যাট ও ট্যাক্স সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।
সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে রেস্তোরাঁয় ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের কারণে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় অসাম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সব ধরনের রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবায় অভিন্ন ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণসহ বেশ কয়েকটি নীতিগত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাত উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের চাপে রয়েছে। এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যবসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যেও প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও কয়েকটি কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত প্রস্তাব ব্যবসা পরিচালনাকে আরও ব্যয়বহুল ও জটিল করে তুলতে পারে। তাই রেস্তোরাঁ শিল্পের টেকসই বিকাশ, কর্মসংস্থান সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
সমিতির পক্ষ থেকে উত্থাপিত সাত দফা প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম হলো রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবায় অভিন্নভাবে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ। তাদের মতে, বর্তমানে রেস্তোরাঁয় ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাটের কারণে একই ধরনের সেবার ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। ফলে কর প্রশাসন জটিল হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ০ দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর এবং ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীতিগত সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রেস্তোরাঁ মালিকদের আরেকটি দাবি হচ্ছে, আগের মতো মাসভিত্তিক ভ্যাট আদায় ব্যবস্থা বহাল রাখা। তাদের মতে, এতে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে এবং কর পরিশোধ প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস দ্রুত চালুর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে লাইসেন্স, অনুমোদন ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা কমানো সম্ভব হয়।
সংগঠনটি রেস্তোরাঁ খাতের জন্য পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করারও প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, একটি সুসংগঠিত নীতিমালা প্রণয়ন হলে খাতটির সুশৃঙ্খল বিকাশ নিশ্চিত হবে এবং মানসম্মত সেবা প্রদান সহজ হবে।
এছাড়া রেস্তোরাঁ শিল্পের শ্রমিক ও কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খাতটিকে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সমিতির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দেশের হসপিটালিটি খাত আরও আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইমরান হাসান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে, যখন দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়ক বাজেট প্রণয়নের জন্য বিএনপি সরকার এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খাতটির ব্যয় হ্রাস, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পেশাদারিত্ব উন্নয়নে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। তবে কয়েকটি প্রস্তাব ব্যবসার ব্যয় ও জটিলতা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে। তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা হলে রেস্তোরাঁ শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ সুলতান খোকনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


