দীর্ঘ একবছরের বেশি সময় পর ফের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দফায় দফায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে টেকনাফে সীমান্তবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি। এতে টেকনাফ পৌরসভার নাইথ্যংপাড়া পল্লান পাড়া, সাবরাং থেকে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত আশপাশের জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর চার দফা ভারী মর্টারশেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে সীমান্তবর্তী এলাকা।
শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীসংলগ্ন জালিয়াপাড়া এলাকায় বাসিন্দা মো. বেলাল বলেন, হঠাৎ ভয়াবহ ঝাঁকুনি অনুভব করি মনে করছি কোনো ভূমিকম্প হয়েছে। মনে হচ্ছিল, যেন পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠছে। পরপর চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আগুনের লেলিহান শিখাও দেখা গেছে। মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, আগুনের ঝলক আমাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। বিস্ফোরণটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আরাকান আর্মির ছোড়া মর্টার শেলের বিস্ফোরণ হতে পারে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, বহুদিন পর মিয়ানমারে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর প্রভাব টেকনাফ সীমান্তেও পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে মানুষের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। অনেকে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য এমন পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগের।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে মর্টারশেল ও মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আরাকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইন রাজ্যে আবার হামলা শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। একইদিন সকালে জান্তা সরকার রাখাইনে বুথে এলাকায় বিমান হামলা চালায়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি ২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকার সীমান্তের ওপারে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ওই গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা যাচ্ছে। যার কারণে অনেক স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি, এবং সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের গুলাগলির গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তের এপারে বিকট শব্দ গুলো ভেসে আসছে, এতে সীমান্তের লোকজনকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সেখানে সীমান্তে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট বাহিনীরা প্রস্তুত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন