যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের লাউতাড়া গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি এখন চরম জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামের সরদার পাড়ার মোড় হইতে লিয়াকত এর বাড়ি পর্যন্ত আনুমানিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা-পাকা রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বর্ষা মৌসুমে সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন এলাকার লোকজন, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণির মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার দুই পাশ ঘিরে থাকা ৩টি পুকুরের কারণে সড়কটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পুকুরের পানির স্রোত ও পাড় বাঁধাই না থাকার কারণে রাস্তার দুইপাশের বড় অংশ ভেঙে পুকুরের ভিতরে চলে গেছে। ফলে রাস্তাটি এতটাই সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে যে, বর্তমানে সেখানে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। জরুরি চিকিৎসা কিংবা কৃষিপণ্য বহনে এলাকার মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পুকুর ঘেঁষে থাকা এ সরু রাস্তাটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। লাউতাড়াবাসী আশা করছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে এ এক কিলোমিটার রাস্তার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
স্কুল শিক্ষার্থী মরিয়ম বেগম ও আবু আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে স্কুল-মাদ্রাসায় যাই, পা ফেলতেই ভয় লাগে কখন না জানি পুকুরের মধ্যে পড়ে যাই। মাঝে মধ্যে ভাঙাচোরা ইটের সলিং এ পা আটকে যায়। সরকারের কাছে আবেদন, পুকুরের পাড় বেধে যেন এই রাস্তা পাকা করে আমাদের কষ্টের শেষ করেন।
রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ ও টেকসই গাইড ওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করার দাবিতে সোমবার শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেছেন লাউতাড়া গ্রামবাসী।
মো. শাহীন বলেন, ভোগান্তির চিত্র শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এলাকার সামাজিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থাও এই এক রাস্তার কারণে ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, কোনো মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ডাক্তারখানায় বা হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। এমনকি যাতায়াত ব্যবস্থার এই করুণ দশার কারণে এই পাড়ার ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতেও অনীহা প্রকাশ করে। অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের হাত ধরে বা কোলে করে এই রাস্তাটুকুর পার করে দেন।
শার্শার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ রাস্তার জন্য একটি আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাস্তাটি নির্মার্ণের জন্য এলাকার লোকজন আমার কাছে এসেছিলেন আমি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামবাসীর প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করে বলেছি, জনস্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন। আগামীতে বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে রাস্তাটি পাকাকরণ ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন