কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ১৭২নং শ্রীরামদী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হতাশাজনক উপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি শ্রেণিকক্ষ, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পরিদর্শন করেন। উপস্থিতি নিবন্ধন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মোট ৬১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ৭ জন।
তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ১০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৭ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৯ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১০ জন এবং প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনও সেদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল না। শুধু পঞ্চম শ্রেণির ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন উপস্থিত ছিল।
বিদ্যালয়ের অনুমোদিত ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৪ জন। পরিদর্শনের সময় প্রধান শিক্ষক নাছিমা ও সহকারী শিক্ষক রাজিয়া অনুপস্থিত ছিলেন।
এ অবস্থায় সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবেদ হাসানকে ফোন করে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাসও দ্রুত বিদ্যালয়ে পৌঁছান।
পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন এমপি জালাল উদ্দীন। তিনি ভবন সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। কোনোভাবেই বিদ্যালয়ে এমন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবেদ হাসান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শারফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন