রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পারিবারিক কলহের জেরে ভাইয়ের হাতে ভাই খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে নিহতের বড় ভাই সুকুমার রায় (৫০) ও ভাতিজা রবীন চন্দ্র রায় (২০)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার (০২ রভেম্বর) ভোরে রাজশাহী নগরের হারুপুর বাগানপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব-৫ এর অধিনায়ক কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনই রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আইহাই রাহী গ্রামের বাসিন্দা। নিহত পর্বত রায় (৪৫) ছিলেন সুকুমার রায়ের ছোট ভাই।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর পারিবারিক বিষয় নিয়ে পর্বত রায়ের সঙ্গে তার মায়ের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই সুকুমার রায় তর্কে যুক্ত হলে দুই ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে গ্রামের এক চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় পর্বত রায় বাঁশের লাঠি দিয়ে সুকুমারকে আঘাত করেন। এ সময় সুকুমারের ছেলে রবীন বাড়ি থেকে আরেকটি লাঠি এনে চাচা পর্বত রায়ের মাথায় আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় পর্বত রায়কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন (১২ অক্টোবর) সকালে তিনি মারা যান। পরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে রবীন চন্দ্র রায়কে প্রধান আসামি ও সুকুমার রায়কে সহ-আসামি করে গোদাগাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে আসামি বাবা-ছেলে পলাতক ছিলেন। র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে র্যাব-৫ এর একটি দল কাশিয়াডাঙ্গা থানার হারুপুর বাগানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের গোদাগাড়ী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৫ এর উপ-পরিচালক মেজর আসিফ আল রাজেক বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে ছিল। দীর্ঘ নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার পর ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন