কক্সবাজার টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় ভোর ৬টা থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে টানা গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ঐ দেশের দুই বিদ্রোহী সংগঠনের সংঘর্ষের জেরে ছোড়া গুলি এসে পড়েছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ চলেছে যা সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে যা এর আগে কখনও হয়নি।
গোলাগুলির সময় হোয়াইক্যংয়ের এক বাসিন্দার বাড়িতে গুলি এসে টিনের চাল ভেদ করে ঘরের মেঝেতে পড়ে। এতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ভীতি ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল সম্রাট গুলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ভিরিফাইড ফেসবুকে জনগণকে সতর্ক করে পোস্ট করেন।
তিনি লিখেন, সকাল থেকে লাগাতার গুলিবর্ষন হচ্ছে, কেউ আতঙ্কিত হবেন না এবং বাড়ি থেকে বের হবেন না।
স্থানীয় সমাজকর্মী কামরুন্নেছা জানান, এর আগে যতবার গুলাগুলি হয়েছে তা আজকের ভয়াবহতার কাছে হার মানাবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকার মানুষের জন্য সরকারের কোন মাথাব্যাথা নেই। আমরা নিরাপদে বাঁচতে চাই।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড লম্বাবিল গ্রামের শাহ আলমের বসতঘরে মিয়ানমার থেকে গুলি এসে পড়েছিল। গত মঙ্গলবার দুপুরে হোয়াইক্যং লম্বাবিলস্থ শাহ্ আলমের বসতঘরের একটি রুমে টিনের চাল ছিদ্র হয়ে একটি গুলি ঢুকে পড়েছে।
এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এবং সীমান্তবাসীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে গোলাগুলির শব্দ প্রায় প্রতিদিনই শোনা যায়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন