বান্দরবানের থানচিতে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক অপহৃত বাঙালি ঠিকাদার মো. আমু হোসেনকে (৫০) ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসঙ্গে অপহৃত ঠিকাদারের কাছ থেকে নেওয়া মুক্তিপণের নগদ ৩ লাখ টাকাসহ অপহরণকারী দলের মাংলে ম্রোকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, থানচি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার আমু হোসেনকে ২১ মে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে তার মুক্তিপণ দাবি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমু হোসেনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার পরিবার অপহরণকারীদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা দিয়ে দেয়।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিজিবি। পরে বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক ও বলিপাড়া জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জোনের ভারপ্রাপ্ত এ্যাডজুটেন্ট সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং অপহরণকারীদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে।
পরে থানচি উপজেলার পাহাড়ি জনপদ বিদ্যামনিপাড়া এলাকায় গভীর রাতে অত্যন্ত কৌশলগত ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে দলটি। অভিযানে বিজিবির পেশাদারিত্ব, ধৈর্য, দূরদর্শিতা ও তাৎক্ষণিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে অপহৃত ঠিকাদারকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একইসাথে অপহরণকারী গ্রুপের অন্যতম সদস্য মাংলে ম্রোকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। এ ছাড়াও অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং মুক্তিপণের নগদ তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আটককৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় বিজিবি। থানচি এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও অনেকেই গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।
খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, বান্দরবানের থানচি একটি পর্যটনবান্ধব এলাকা। এখানে কোন প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রশ্রয় দেবে না বিজিবি। এ ব্যাপারে সর্বসাধারণের আন্তরিক সাহায্য নিয়ে বিজিবি সর্বদা দেশ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন