বরগুনার তালতলীতে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ভাসমান অবস্থায় একটি বড় সামুদ্রিক কোরাল মাছ ধরা পড়েছে জেলের জালে। মাছটির ওজন ২২ কেজি ৫০০ গ্রাম। পরে তালতলী মাছ বাজারে উন্মুক্ত নিলামে ১৯ হাজার ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় জেলে মান্নান খান ইলিশ ধরতে সাগরে গেলে ফকিরহাটসংলগ্ন মোহনায় মাছটি ভাসতে দেখেন। তিনি জাল ফেলে মাছটি তুলে আনেন। তবে জেলেদের ভাষ্য, তখন মাছটি মৃত ছিল। পরে মাছটি তালতলী মাছ বাজারে আনা হলে একনজর দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা।
তালুকদার মৎস্য আড়তে শহিদুল হক তালুকদারের গদিতে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে কেজিপ্রতি ৮৫০ টাকা দরে মাছটির দাম হাঁকা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. বশির মৃধা মাছটি কিনে নেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, মাছটির রং কিছুটা সাদাটে হয়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায়নি। এটি আরও সতেজ থাকলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারত বলে তাঁদের ধারণা।
জেলে মান্নান খান জানান, এত বড় মাছ জীবনে খুব কমই পেয়েছেন। সাগরে ভাসতে দেখে জাল ফেলেন। যদিও মাছটি জীবিত ছিল না, তবু প্রায় ১৯ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। তাঁর ভাষায়, মাছ কম পেলেও এই একটি মাছই বড় সহায়তা করেছে।
ক্রেতা মো. বশির মৃধা জানান, সচরাচর এত বড় কোরাল পাওয়া যায় না। মাছটি কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হবে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’–এর তালতলী সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান বলেন, এটি কেবল বাজারের ঘটনা নয়; সামুদ্রিক পরিবেশের জন্যও সতর্কবার্তা হতে পারে। এত বড় মাছ হঠাৎ মৃত অবস্থায় ভেসে ওঠা স্বাভাবিক নয়। দূষণ, অবৈধ জাল, ট্রলারের আঘাত বা সমুদ্রে বর্জ্য নিঃসরণ—বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, বড় আকারের কোরাল বঙ্গোপসাগরে পাওয়া যায়। তবে মৃত অবস্থায় ভেসে উঠলে তার কারণ খতিয়ে দেখা দরকার। প্রাকৃতিক কারণ, রোগ বা আঘাত—বিভিন্ন কারণে এমন হতে পারে। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হবে এবং জেলেদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।

