ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভেসে চলেছে আশা, মৃত খালে ফিরেছে প্রাণ

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চিলু মাঝি খাল একসময় মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে থাকলেও পুনঃখননের ফলে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরা খালটি একসময় স্থানীয় মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ ছিল।

মশা-মাছির উপদ্রব, দুর্গন্ধ এবং শুকনো মৌসুমে সেচের পানির অভাবে কৃষকেরা ঠিকমতো ফসল উৎপাদন করতে পারতেন না। তবে খাল খননের ফলে এখন সেই খালে ফিরেছে জীবনের স্রোত।

শনিবার (১৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ চিলু মাঝি খালে প্রতীকী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাগজের ছোট নৌকা ভাসানোর আয়োজন করে। খালের তীরে দাঁড়িয়ে গ্রামের শিশুরা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, মৃতপ্রায় খাল আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সচেতনতার পর সরকার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ এর আওতায় নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির মাধ্যমে প্রায় ১৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।

খাল পুনঃখননের ফলে এখন সেচের পানি সহজেই কৃষিজমিতে পৌঁছাচ্ছে। এতে নলবুনিয়া, চিলু মাঝি, সুন্দরিয়া, তাতীপাড়া এবং পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া এলাকার কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন এবং বছরে একাধিকবার ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাচ্ছেন।

কৃষক জালাল মিয়া বলেন, আগে খালগুলো ডোবা-নালার মতো ছিল, মশা-মাছির উপদ্রবও অনেক ছিল। এখন খাল খননের ফলে সবাই উপকার পাচ্ছে।

তাতীপাড়া গ্রামের কৃষক মো. জুয়েল বলেন, আগে বর্ষা মৌসুমে একবারই ফসল ফলাতাম। এখন সেচের পানি থাকলে বছরে কয়েকবার চাষ করা সম্ভব হবে। এতে আমাদের আয়ও বাড়বে।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে এক ফসলি জমি দুই বা তিন ফসলি জমিতে পরিণত হবে। এতে কৃষকদের জীবনমান উন্নত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন, খালগুলো সচল হওয়ায় সেচ সুবিধা বাড়বে এবং একই জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

এলজিইডির তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রকল্পের আওতায় খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খাল পুনঃখননের এই উদ্যোগ শুধু কৃষিকাজেই নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও আশার বার্তা হয়ে উঠেছে। কাগজের নৌকা আর শিশুদের হাসি সেই বার্তাই ছড়িয়ে দিচ্ছে যে, মরা খাল আবার বেঁচে উঠেছে।