ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাস ভাঙচুর, ডিসি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:৫৫ এএম
বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা। ছবি- সংগৃহীত

চাকরিচ্যুত প্রতিজন শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি থাকলেও জেলা প্রশাসকের সামনে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কোম্পানির দুটি স্টাফ বাস ভাঙচুর করেছেন চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডে অপসো স্যালাইন ফার্মার কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

শ্রমিকদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরীন এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী।

এর আগে টানা ২২ দিন আন্দোলনের পর গত ২০ নভেম্বর রাতে বরিশালের নবাগত জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের আহ্বানে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে তিন শর্তে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা।

শর্তগুলোর মধ্যে ছিল- অপসো স্যালাইন (ওএসএল) ফার্মার নির্মাণাধীন জাগুয়া প্লান্টে পরবর্তী নিয়োগে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া, চাকরির বয়স শিথিল করা, বকেয়া বেতন ও সব পাওনা একত্রে পরিশোধ এবং মানবিক বিবেচনায় বাড়তি ক্ষতিপূরণ প্রদান। সে সময় প্রতিজন শ্রমিককে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, মালিকপক্ষ ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কোনোটিই পূরণ করা হয়নি। যেখানে তারা ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন, সেখানে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে চাওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অমানবিক। এ ক্ষোভ থেকেই শ্রমিকরা কোম্পানি থেকে বের হয়ে দুটি স্টাফ বাস ভাঙচুর করেন এবং পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বাসদ বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি উপেক্ষা করে মালিকপক্ষ ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করলে ২১ ডিসেম্বর বাড়তি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত দিনে মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রয়োজনে তারা আইনি সহায়তা নেবেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে অপসোনিন ফার্মার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কর্মকর্তা অনিন্দ্য কুমার বলেন, আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের ১২০ দিনের বেতন, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিশোধ করা হয়েছে। এর বাইরে যে দাবি করা হচ্ছে তা অযৌক্তিক এবং আইনের বাইরে। শ্রমিকরা মামলা করলে তা আইনিভাবে মোকাবিলা করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর দুপুরে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির স্টোরিপ্যাক বিভাগের ৫৭০ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করে মালিকপক্ষ। সেদিন থেকেই চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। কারখানার প্রধান ফটক অবরোধসহ নানা কর্মসূচির কারণে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ, ভুখা মিছিলসহ টানা ২২ দিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের পাল্টা আন্দোলনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত হলে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।