বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার তিন প্রবাসী ও স্থানীয় উদ্যোক্তার উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ১২ একর জমির ওপর একটি সমন্বিত কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক খামার। হাঁস, মুরগি, মাছ ও ছাগল পালনের পাশাপাশি শিগগিরই গরু ও মহিষ পালনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। উদ্যোক্তারা বলছেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং এগ্রো ট্যুরিজমের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের আমবৌলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. জালাল আহমেদ তার বন্ধু রিয়াজুল ইসলাম ও মো. মাহফুজুজ্জামান যৌথ উদ্যোগে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের মাচারতারা গ্রামে আইকনিক ইকো ভিলেজ নামে প্রকল্পটি গড়ে তুলেছেন। প্রায় ১২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ প্রকল্পে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
বর্তমানে খামারটিতে রাজহাঁস, চীনা হাঁস, খাকি ক্যাম্পবেলসহ বিভিন্ন জাতের হাঁস রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজারের বেশি হাঁস ডিম উৎপাদন শুরু করেছে। এ ছাড়া দেশি মুরগি ও ছাগল পালন করা হচ্ছে। দুটি বড় মৎস্যঘেরে পাঙাস ও তেলাপিয়া মাছ চাষ করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই গরু ও মহিষ পালনের কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় ছোট-বড় ছয়টি শেড নির্মাণ করা হয়েছে। মৎস্যঘেরের পাড়জুড়ে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে সমুয়েল সরকার, রিপন মিয়াসহ তিনজন কর্মচারী খামারটির সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, হাঁসগুলো ইতোমধ্যে ডিম দেওয়া শুরু করেছে, মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রাজহাঁস, চীনা হাঁস ও ছাগলের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। উৎপাদিত ডিম, মাছ ও অন্যান্য পণ্য স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি পরিদর্শনে আসা স্থানীয় কাতারপ্রবাসী রাজিব খলিফা বলেন, প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে আমিও এমন একটি খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি। তিন বন্ধুর এই উদ্যোগ ও সফলতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রকল্প উদ্যোক্তা জালাল আহমেদের স্ত্রী সাথী আক্তার বলেন, স্বামীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কর্মচারীদের সঙ্গে আমিও দিন-রাত কাজ করছি। তবে প্রকল্প এলাকায় যাতায়াতের জন্য কোনো সড়ক না থাকায় পশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
খামারের কর্মচারী সমুয়েল সরকার জানান, প্রতিদিন হাঁস-মুরগি ও ছাগলের পরিচর্যা, খাদ্য সরবরাহ, ঘাস কাটা এবং অন্যান্য কাজ করতে হয়। ভবিষ্যতে খামারের পরিধি বাড়লে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উদ্যোক্তা মো. জালাল আহমেদ বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাছ চাষের মাধ্যমে প্রকল্পের যাত্রা শুরু করি। গত নয় মাস ধরে হাঁস, মুরগি ও ছাগল পালন করছি। ভবিষ্যতে মাছের হ্যাচারি, গবাদিপশুর খামার, পশুখাদ্য উৎপাদন, মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও দুগ্ধ খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
অপর উদ্যোক্তা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ১২ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যাতায়াতের রাস্তা না থাকা। সরকারি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা পেলে আমরা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আরও বড় অবদান রাখতে পারব। একই সঙ্গে এগ্রো ট্যুরিজমের মাধ্যমে এলাকাকে একটি কৃষিভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রবাসী উদ্যোক্তাদের এমন উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

