ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বিডিপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত ৩০

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
সংঘর্ষে আহতরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ভোলার লালমোহনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বিডিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জামায়াত সমর্থিত বিডিপি সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফকালে বলেন, শুক্রবার সকাল ১১টায় রামগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীরা গণভোট ও সাংগঠনিক কাজে ইউনুছ পাটওয়ারীর বাড়িতে যান। তখন ওই এলাকার নুরনবীর ছেলে রুবেল (২৮) নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং তাদের হেনস্তা করেন।

নিজামুল হক নাঈম বলেন, বিষয়টি একজন নারী কর্মী তার স্বামী রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনকে জানান। জসিম উদ্দিন বিষয়টি জানতে মুঠোফোনে রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে রুবেল ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। এরপর রুবেল জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তার সঙ্গে হাতাহাতি ও হামলা চালান। এ ঘটনা শুনে তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যেই বিএনপির আরও নেতাকর্মী বাজারে সংঘবদ্ধ হতে থাকে এবং একপর্যায়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন। তারা সেখানে এসে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। আমি বিষয়টি জানতে পেরে নেতাকর্মীদের সেখান থেকে চলে আসতে বলি। নেতাকর্মী বাজার ত্যাগ করতে শুরু করলে পেছন থেকে হঠাৎ তারা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় তারা আমাদের ১৫ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহতরা বর্তমানে লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওই  ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি নামে তারা জামায়াতের সহায়তায় মহিলা লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে লালমোহনের স্বাভাবিক পরিস্থিতি খারাপ করার লক্ষ্যে দুপুরের দিকে মহিলা লীগের নেত্রীদের দিয়ে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালায়। আমাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

তিনি আরও বলেন, মাগরিবের পর লালমোহনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ক্যাডাররা আমাদের যুবদলের সভাপতি জসিম ও তার ভাই আলমগীর, রুহুল আমিন, নুরনবীসহ ১২-১৫ জনের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তারা লালমোহনের পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে নির্বাচন বানচাল করতে চাচ্ছে। এ ঘটনার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও জামায়াতের ক্যাডারদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি এবং একই সঙ্গে উক্ত নিন্দনীয় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের দাওয়াতি কাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা রায়চাঁদ বাজারে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়। এরপর বিএনপির নেতাকর্মীরাও একত্র হয়।

ওসি আরও বলেন, রায়চাঁদ বাজারে রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট দিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। আমার জানামতে, লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। রায়চাঁদ বাজারের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে রাত ১১টা পর্যন্ত আমি ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি।