ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন 

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৮:১৫ পিএম
বগুড়ার সারিয়াকান্দি যমুনার চরাঞ্চলে কৃষক কুমড়া খেতে। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বগুড়ার সারিয়াকান্দি যমুনার চরাঞ্চলে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মিষ্টি কুমড়া বাম্পার ফলন হয়েছে। ১ জন কৃষক ১৫ বিঘা পতিত জমিতে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৮ লাখ টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছেন। হাট-বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষক লাভবান হচ্ছেন।

এই উপজেলার মধ্যে দিয়ে দুটি বড় নদী—বাঙালি ও যমুনা—প্রবাহিত হয়েছে। এজন্য উপজেলার ৩ ভাগের ২ ভাগ এলাকায় চরাঞ্চল। চরাঞ্চলের এসব পতিত জমিতে পানিসেচের মাধ্যমে কৃষকরা নানান ফসল ফলাচ্ছেন। পতিত জমিতে মিষ্টি কুমড়া বপন করা যায় এবং বপনের ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব। গত কয়েক বছরের মতো এ বছরও কৃষকরা চরাঞ্চলের পতিত জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। 

এখন কৃষকেরা তাদের জমি থেকে মিষ্টি কুমড়া উত্তোলন শুরু করেছেন। কৃষকরা প্রতি কেজি ২০ টাকায় বিক্রি করছেন। এবার একেকটি মিষ্টি কুমড়া ২ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত হয়েছে। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি বিঘা চুক্তিতে মিষ্টি কুমড়া পাইকারি ক্রেতারা ক্রয় করছেন। ফসল দিনাজপুর, রংপুর, পঞ্চগড়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ উপজেলায় ১ শত হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ১০৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে এ বছর ২০ থেকে ২২ টন মিষ্টি কুমড়া উত্তোলন হচ্ছে।

উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া চরের কৃষক শাইন মিয়া জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা, যা পাইকারি ক্রেতারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ক্রয় করেছেন। 

কৃষক রঞ্জু মিয়া জানান, তিনি ১৫ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা পাইকারি ক্রেতারা ৮ লাখ টাকায় ক্রয় করছেন। এটি তার ওই জমির প্রথম কিস্তির কুমড়া। প্রথম কিস্তি বিক্রির পর তিনি দ্বিতীয় কিস্তির কুমড়াও বিক্রি করবেন। একই এলাকার কৃষক জিয়াউল ফকিরও ৩ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন, যা দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা চরের পতিত জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।’