ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এখন ঋণখেলাপি

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ওকে এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান। তিনি আগে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ খেলাপি হওয়ায় নির্বাচনে মনোনয়ন নেওয়ার জন্য হাইকোর্টে পিটিশন দায়ের করেন এবং স্টে অর্ডার লাভ করেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পিটিশন মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্ট তার স্টে অর্ডার বাতিল করেছেন। হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাজী রফিকুল ইসলাম এখন ঋণখেলাপি প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন এবং আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এ বিষয়টি তার আইনজীবী মো. আব্দুল হাই নিশ্চিত করেছেন এবং একটি প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, জেলার ১২ উপজেলার সাতটি আসনের মধ্যে এত বিশাল পরিমাণ ঋণ কোনো প্রার্থীর নেই। ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া কাজী রফিকুল ইসলাম বর্তমানে ২৪ বছরের মধ্যে ব্যাপক সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে তার মোট ঋণ ৭৬২ কোটি টাকা। চলতি বছরে তার হাতে নগদ ৩৬ কোটি টাকা রয়েছে।

হলফনামায় তার নামে চারটি এনআই অ্যাক্ট মামলা দেখানো হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর দাখিল হওয়া হলফনামায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে ব্যাংক ঋণ, শেয়ার হাউস ঋণ ও বাড়িভাড়া বাবদ মোট ঋণ ২৬১ কোটি ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ২১ টাকা দেখানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ৩৯৬ কোটি টাকার ঋণখেলাপি তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।

ঋণ অনাদায়ের কারণে গত বছর অক্টোবরে ব্যাংকটি কাজী রফিকুল ইসলাম ও নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করলে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তা শিরোনামে আসে।

কাজী রফিকুল ইসলাম সারিয়াকান্দির কর্নিবাড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কাজী এফাজ উদ্দীনের ছেলে। স্ত্রীর নাম কাজী রশিদা ইসলাম। তিনি ৬৯ বছর বয়সী, ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস এবং নিজেকে পেশাদার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ২০০১ সালে তিনি বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

হলফনামায় উল্লিখিত আয়ের উৎস—কৃষি খাত থেকে ১ লাখ টাকা, স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৯ টাকা, চাকরি/কোম্পানির প্রদত্ত সম্মানী ভাতা ১২ লাখ টাকা।

পাশাপাশি তিনি নিজেই র‍্যান্স রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৯৬ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার ২৭৪ টাকার ঋণের গ্যারান্টর।

হলফনামায় তার নগদ সম্পদের পরিমাণ ৩৬ কোটি ৮ লাখ ৬৪ হাজার ১২৬ টাকা। ব্যাংকের ৯টি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে মোট ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ টাকা। স্ত্রীর নামে জমা ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ৯৭০ টাকা। বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেল বাবদ ৩০ লাখ টাকার সম্পদ। স্ত্রীর নামে সোনা ও মূল্যবান গহনার মূল্য ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ৮০ হাজার টাকা। আসবাবপত্রের মোট মূল্য ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগ্নেয়াস্ত্র ২৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৮ টাকাসহ মোট সম্পদ তার নামে ৪৩ কোটি ৮৮ লাখ ৯ হাজার ৬৯৩ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ২ কোটি ৭৩ লাখ ১৪ হাজার ১৪৩ টাকা।

কাজী রফিকুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে স্টে অর্ডার নিয়ে ঋণখেলাপি দায় থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেছেন, হলফনামায় যা উল্লেখ রয়েছে, তা সম্পূর্ণ সত্য।