দুপচাঁচিয়ার হিন্দু ধর্মালম্বীরা পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে পিঠা উৎসব উদযাপন করেছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হিন্দু (সনাতন) ধর্মীয় মতে পৌষ মাসের শেষ দিনে (সংক্রান্তি তিথিতে) সনাতন ধর্মালম্বীরা পৌষ পার্বণ উৎসব পালন করেন। এটি সনাতন ধর্মালম্বীদের একটি লোকজ উৎসব।
পৌষ পার্বণ বাংলা সনের পৌষ মাসের শেষ দিনে পালিত হয়। প্রাচীনকাল থেকেই দেবতার পূজায় পিঠার অর্ঘ্য প্রদানের রীতি রয়েছে। দেবতার পূজায় নিবেদনের জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রকার পিঠা প্রস্তুত করার বিধান রয়েছে। তবে গ্রীষ্মকালে পিঠাপুলি রুচিকর নয় বলে বর্ষা বা শীতকালেই এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত পিঠা-পার্বণের মধ্যে পৌষ সংক্রান্তির পৌষ পার্বণই সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ। এই দিনটি হিন্দু পঞ্জিকায় ‘মকর সংক্রান্তি’ বা ‘উত্তরায়ণ সংক্রান্তি’ নামেও পরিচিত।
প্রাচীন হিন্দুরা এই দিনটিতে পিতৃপুরুষ অথবা বাস্তুদেবতার উদ্দেশ্যে তিল কিংবা খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি তিলুয়া এবং নতুন ধান থেকে উৎপন্ন চাল দিয়ে তৈরি পিঠার অর্ঘ্য প্রদান করতেন। এ কারণে পৌষ সংক্রান্তির অপর নাম তিলুয়া সংক্রান্তি বা পিঠে সংক্রান্তি। এই প্রাচীন উৎসবের একটি রূপ অদ্যাবধি পিঠা-পার্বণের আকারে বাঙালি হিন্দু সমাজে প্রচলিত।
এ উপলক্ষে পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন সনাতন ধর্মাবলম্বী মহিলারা বাড়ির উঠোন গোবর জল দিয়ে লেপ দেন এবং পরে চালের গুঁড়া দিয়ে নানা ধরনের আলপনা আঁকেন।
রাতে রকমারি পিঠা তৈরি করা হয়। পৌষ সংক্রান্তিতে মূলত নতুন ফসলের উৎসব ‘পৌষ পার্বণ’ উদযাপিত হয়। নতুন ধান, খেজুরের গুড় ও পাটালি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করা হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় চালের গুঁড়া, নারিকেল, দুধ ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পুলি। বাংলাদেশের বিশেষ কিছু পিঠার মধ্যে অন্যতম হলো—বিনি পিঠা, মালপোয়া পিঠা, সিমুই পিঠা, সূর্যমুখী পিঠা, ঝিনুক পিঠা, চিতই পিঠা, খেজুর পিঠা, বিনুনির মতো গড়া বেনি পিঠা, ঝালকুশ পিঠা, মিঠে নকশায় সাজানো নকশি পিঠা, পাঁপড়ের আকারের মলকো পিঠা, করলা পিঠা, চোঙ্গা পিঠা, মুঠা পিঠা ও রস চিতই পিঠা। এসব পিঠা প্রথমে দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়, এরপর আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে নানা রকম পিঠা খাওয়া হয়।
পরের দিন ভোরবেলায় সূর্য ওঠার আগে শিশু থেকে বয়স্ক পরিবারের সদস্যরা স্নান সেরে খড়গুচ্ছ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাপ গ্রহণ করেন। সেই সঙ্গে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সোলার দিয়ে তৈরি নানা ধরনের ফুল, কদম বাড়ি ও ঘরের দরজায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়, যা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন