ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বগুড়ায় সবজির বাজারে আগুন, দিশাহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০২:১১ পিএম
বাজারে সবজি কিনছেন এক নারী। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ও আশপাশের হাটবাজারে সবজির বাজার যেন এক অঘোষিত যুদ্ধক্ষেত্র। প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। ৬০ থেকে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া এখন দুষ্কর। অথচ শীতে সবজির দাম কম থাকার কথা ছিল। বাজারে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের পকেট একেবারে পুড়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার সাহারপুকুর, চৌমুহনী, জিয়ানগর, তালোড়া, কর্ণিপাড়া, তিনদিঘী ও সর্ববৃহৎ হাট ধাপসুলতানগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, শসা ৬০ থেকে ৮০, ঢেঁড়শ ৮০ থেকে ১০০, টমেটো ৬০ থেকে ৮০, পটল ৮০ থেকে ১০০, বরবটি ৮০, ঝিঙা ৮০, কচুর লতি ৬০ টাকায়। ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা, পাতাকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৮০, কাকরোল ৮০ থেকে ৯০, চিকন বেগুন ৭০ থেকে ৯০, পেঁপে ৪০ থেকে ৬০, চিচিঙ্গা ৮০, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০, কচু ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া কুমড়া (জালি) বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৮০ টাকায়, লাউ ৭০ টাকায়, শিম ৪৫ টাকা, আর কচুর বৈই ৩০ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, রসুন ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, আদা ১২০ টাকা।

ঠিক এক বছর আগে এ সময় একই বাজারে সবজির দাম অনেকটাই সহনীয় ছিল। পটল বিক্রি হতো ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, বরবটি ৫০ থেকে ৮০, বেগুন ৬০ থেকে ৭০, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৬০, শসা ৩০ থেকে ৬৫, করলা ৫৫ থেকে ৮০, আর ঝিঙা ৫০ থেকে ৮০ টাকায়। তুলনামূলকভাবে এ বছর প্রায় সবজির দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মুরগি ও মাছের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু সবজির দাম বেড়েছে। গত জুলাই-আগস্টে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবং সার ও কীটনাশক সময়মতো না পাওয়ায় সবজির ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে উৎপাদন কমে গেলে সরবরাহও কমে যায় এবং দাম বেড়ে যায়।

সবজি পাইকারি ব্যবসায়ী তাহের বলেন, সবজি মোকাম থেকে আনার পর আড়তে নামানোর আগেই পাইকারি দামে বিক্রি হয়ে যায়। হাতবদল হলেই খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সবজির দাম বেড়ে যায়। খুচরা সবজি ব্যবসায়ী ফিরোজ বলেন, কাঁচা সবজির পণ্য বারবার খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে হাতবদল হওয়াই দামের আগুনের মূল কারণ।

এরপর ডিম ব্যবসায়ী পঞ্চকুণ্ডের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, সাধারণত শীত মৌসুমে ডিমের সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। বর্তমানে পাইকারিতে প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় ৮ টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে। তিনি আরও বলেন, গ্রামেগঞ্জে হাঁস-মুরগির খামার থাকায় ডিমের চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে ডিমের দাম কম। তবে মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা মাছের বাজারে গেলে বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার থাকলে মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকত বলে এলাকার সুধীজনেরা মনে করেন।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর কিছুদিন চাঁদাবাজি ও বাজারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কিছুটা কমলেও বর্তমানে আবারও দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।