প্রায় দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের এমপি প্রার্থী তারেক রহমান পৈতৃক ভিটা ও নিজের নির্বাচনি এলাকায় পা রাখতে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
নগরীর রাজপথ থেকে গ্রামাঞ্চলের মাঠ-ঘাট, জনসভা, লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুন সবই প্রস্তুতিতে সরগরম।
দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় নির্বাচনি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তারেক রহমান। প্রথমে দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।
মূলত ২৮ জানুয়ারি এই সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও বিমানের টিকিট জটিলতার কারণে এক দিন পিছিয়ে ২৯ জানুয়ারি পুনঃনির্ধারিত হয়েছে।
রাজশাহীর জনসভা শেষে তিনি সড়কপথে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হবেন। বিকেল ৩টায় নওগাঁর এটিম মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। নওগাঁ থেকে সরাসরি বগুড়া-৬ এ এসে বিকেল ৪টায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
বগুড়াকে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ‘নিরাপদ বলয়’ হিসেবে দেখা হয়। তারেক রহমানের পারিবারিক শেকড়, অতীত নির্বাচন এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রভাবের কারণে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে শুধু নির্বাচনি প্রচার নয়, উত্তরবঙ্গের রাজনীতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কৌশলগত ‘ইভেন্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তরুণ ভোটার থেকে দলীয় নেতাকর্মী পর্যন্ত নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মাঠে নামা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে বগুড়াবাসী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আমরা আশা করি, জনসভায় কয়েক লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে।
জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন কমিটি ও উপকমিটি গঠন করেছেন। মাঠ প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, যাতায়াত ও গণসমাগম নিয়ন্ত্রণ সব মিলিয়ে বগুড়ায় নির্বাচনি ‘ওয়ার রুম’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সদর আসন ছাড়াও শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, গাবতলী, ধুনট ও সারিয়াকান্দি থেকে বড় মিছিল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলা থেকেও কর্মী-সমর্থকরা অংশ নেবেন। পাড়া-মহল্লায় মাইকিং, পোস্টার, যুব ও ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজশাহী-নওগাঁ-বগুড়া সড়কপথে সফরটি ‘রাজনৈতিক বার্তা’ বহন করছে। ঐতিহাসিকভাবে উত্তরবঙ্গের ভোটে সড়কপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বাচনি ফলের দিক থেকে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ইতিমধ্যেই শক্ত অবস্থান রয়েছে।
তবে ক্ষমতাসীন দল, প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের সমীকরণ কেমন দাঁড়ায় তা নজরদারি জরুরি। তারেক রহমানের জনসভা সেই সমীকরণে ‘টুইস্ট’ আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন