ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বগুড়া-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াই

বিএনপি-জামায়াতের ভিড়ে ‘কেতলি’ কতটা ফ্যাক্টর?

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
মাহমুদুর রহমান মান্না। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় দিন যত যাচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে ভোটের সমীকরণ। শিবগঞ্জের রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্ত। চায়ের দোকান, হাটবাজার কিংবা গ্রাম্য আড্ডাসবখানেই একটাই আলোচনা, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে কে এগিয়ে?

বড় দলগুলোর শক্তিশালী প্রার্থীর ভিড়ে আলাদা করে নজর কাড়ছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তার নির্বাচনি প্রতীক ‘কেতলি’। চাপ, বাধা ও নানা অভিযোগের মধ্যেও তিনি আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত মানুষের ভোটই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

বগুড়া-২ ছাড়াও ঢাকা-১৮ আসন থেকে একসঙ্গে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন তিনি।

পোস্টে মান্না লেখেন, এখন আমি বগুড়ায়। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ঢাকা-১৮ একটি বিশাল নির্বাচনি এলাকা; সাতটি থানা ও প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভোটার নিয়ে গঠিত।

তিনি আরও লেখেন, নির্বাচন এতটাই ব্যয়বহুল যে তা নির্বাহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই বাস্তবতায় আমি ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে কেউ কষ্ট পেলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বগুড়া-২ : ভোটার সংখ্যা রাজনৈতিক বাস্তবতা

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪১ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৮১৪ জন পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত। ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

নির্বাচনি পথচলার শুরু থেকেই নানা বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ মাহমুদুর রহমান মান্নার। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রচারণার মাঠ প্রতিটি ধাপেই চাপ ছিল বলে দাবি তার। তবুও সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি এখন ভোটের লড়াইয়ে সক্রিয়।

মান্নার ভাষায়, ক্ষমতার একটা ভার থাকে। সেই ভার অনেক জায়গায় প্রভাব ফেলছে। কোথাও কোথাও সেই প্রভাব ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে। এই প্রভাব না থাকলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে এবং তখন আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হবো।

জোর নয়, মানুষের সমর্থনেই লড়াই’

হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রকৃত লড়াই হওয়া উচিত মানুষের সমর্থন নিয়ে। জোরজবরদস্তির প্রতিযোগিতায় তিনি নেই। তবে সমর্থনের লড়াইয়ে জয় পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভোট নিয়ে যে অভিযোগ ও অনাস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে মানুষ এখন একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বড় কোনো শঙ্কা না থাকলেও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করেন মান্না।

তার ভাষায়, কিছু এলাকায় নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর, নারী কর্মীদের হুমকি এবং বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে সেগুলো বড় আকার ধারণ করেনি।

হেভিওয়েটদের ত্রিমুখী লড়াই

বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার পাশাপাশি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির মীর শাহে আলম ও জামায়াতে ইসলামীর আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান। বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য। এ ছাড়া এই আসনে আরও প্রার্থী হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার, ইসলামী আন্দোলনের জামাল উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা এই আসনের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ভোটের দিনেই মিলবে চূড়ান্ত উত্তর

সব মিলিয়ে শিবগঞ্জের রাজনীতিতে এখন হেভিওয়েটদের ত্রিমুখী লড়াইই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। চাপ, অভিযোগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই জটিল সমীকরণে শেষ হাসি কে হাসবেন, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনই। তবে ভোটারদের দৃষ্টি এখন মানুষের ভোটাধিকার ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার দিকেই।