বগুড়া-৪ নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলার বিএনপির দুর্গ দ্বিতীয়বার পুনরুদ্ধার করলেন মো. মোশারফ হোসেন। সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৯। এর আগে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে প্রথমবার আসনটি পুনরুদ্ধার করেছিলেন ক্লিন ইমেজের এই বিএনপি নেতা। তিনি দীর্ঘ বছর একক জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রেখেছেন। মোশারফ হোসেন বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চনার পর বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে বিএনপির দুর্গ বগুড়ার সাতটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করেন ভোটাররা। বগুড়া-৪ আসনের ১১৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭৮ ভোট। হাতপাখা প্রতীকে ইদ্রিস আলী ২ হাজার ৯৫৪ এবং জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল) ১ হাজার ১০৭ ভোট পেয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এই আসনে জামায়াতের প্রার্থীকে জেতানোর চেষ্টা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা। তাদের সমর্থকরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলেও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পদধারীরা নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা দিয়েছেন। বেশকিছু নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সমর্থকরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কেউ কেউ বলছেন, বিএনপিতে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত ডা. জিয়াউল হক মোল্লা পক্ষের সমর্থকরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় ঘটাতে মরিয়া ছিলেন। তাদের একজন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ভোটের দিনও ছিলেন তৎপর। বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে লাগাতার সাইবার বুলিং করেও ধানের শীষের বিজয় ঠেকানো যায়নি।
নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, কাহালু উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, নন্দীগ্রাম উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসন। এখানকার মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩। নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৬। বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৪৬৮ ভোট। বৈধ ভোট ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭৮। শতকরা ৭৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
স্থানীয় বিএনপি সমর্থকরা জানান, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বগুড়া-৪ আসন বিএনপির দখলে ছিল। দলটি ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে বিএনপির দুর্গে পেরেক বসায় আওয়ামী লীগ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন মহাজোটের রেজাউল করিম তানসেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অঘোষিত রাজতন্ত্রের শাসকগোষ্ঠীর কবল থেকে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ডামি নির্বাচনেও এই আসনে নৌকা প্রতীকের পরাজয় ঘটেছিল। ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন মোশারফ।
২০২৩ সালের উপনির্বাচন থেকে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেয়। মাত্র ২০ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেন। তার নিকটতম প্রার্থী আশরাফুল হোসেন হিরো আলম জিততে জিততে হেরে যান। তিনি পেয়েছিলন ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন নৌকার প্রার্থী তানসেন। তার সঙ্গে সঙ্গে ভোটযুদ্ধ করেন বিএনপিতে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত ডা. জিয়াউল হক মোল্লা। তিনি ঈগল প্রতীক পেয়েছিলেন ৪০ হাজার ৬১৮ ভোট।

