মাত্র ৫০০ টাকার চাঁদা। সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কাল হলো ২৩ বছরের সুনীল বাঁশফোড়ের। আর তার নিথর দেহ কাঁধে নিয়ে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা থেকে প্রশাসনের দুই দপ্তর ঘেরাও করল হরিজন সম্প্রদায়ের কয়েকশ মানুষ। এ সময় তারা ন্যায়বিচারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের সেউজগাড়ি সুইপার কলোনি থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সাতমাথায় এসে সুনীলের মরদেহ সড়কের ওপর রেখে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। এতে শহরের প্রধান সড়কগুলোয় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর মিছিলটি যায় বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে। সেখানে ‘খুনি অনিকের ফাঁসি চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয় এলাকা। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যান বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে। সেখানেও চলে বিক্ষোভ ও দ্রুত বিচারের দাবি।
হরিজন সম্প্রদায়ের বগুড়া জেলা সভাপতি দিপক রাম বলেন, ‘প্রকাশ্য দিবালোকে ৫০০ টাকার জন্য আমাদের ছেলেকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। মূল আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাবে।” বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি, শুধু বগুড়া নয়, দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শহরের স্টেশন রোডে সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে সুনীল বাঁশফোড়ের কাছে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন অনিক নামের এক ব্যক্তি, যাকে স্থানীয়রা মাদক কারবারি হিসেবে চেনে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুনীলের পেট ও ঊরুতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। প্রথমে তাকে নেওয়া হয় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সোমবার রাত ৯টার দিকে মারা যান তিনি।
নিহত সুনীল শহরের সেউজগাড়ি সুইপার কলোনির সন্তোষ বাঁশফোড়ের ছেলে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।


