বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন উদ্ধারে ঈশ্বরদী থেকে পাঠানো উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এটি সেখানে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। একই সঙ্গে সৈয়দপুর থেকেও আরেকটি উদ্ধারকারী ট্রেন এসেছে বলে জানা গেছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুর প্রায় ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক যাত্রী আহত হন এবং এর প্রভাব পড়ে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগে কিছু রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাগবাড়ী এলাকায় গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে রেললাইন সংস্কারের কাজ চলছিল। ফলে এ পথে ট্রেনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছিল। সকালে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসটি দুপুরের দিকে দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রম করার সময় ইঞ্জিন ঠিক থাকলেও হঠাৎ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ১৪টি বগির মধ্যে অন্তত ৯টি লাইন থেকে ছিটকে যায়।
ঘটনার সময় ট্রেনের ছাদে থাকা কিছু যাত্রী আতঙ্কে নিচে লাফিয়ে পড়ে আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। স্থানীয়রাও এতে সহযোগিতা করেন। আহতদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ জনকে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর রংপুরমুখী ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। রেললাইনের কিছু স্লিপার স্থানচ্যুত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, চালক সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করে তুলনামূলক বেশি গতিতে ট্রেন চালানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তাদের দাবি, সংস্কার কাজ চলায় ওই এলাকায় সতর্কতার জন্য লাল পতাকা টানানো ছিল, কিন্তু সেটি উপেক্ষিত হয়েছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানিয়েছেন, দ্রুত উদ্ধার কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে এবং রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অনেক আহত যাত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন।


