বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া রেলস্টেশন সংলগ্ন অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতিদিন শত শত পথচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ক্রসিং পারাপার করছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
রেলওয়ে সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তালোড়া থেকে আলতাফনগর রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রায় ১২টি অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে। এসব ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ, কৃষক, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। তবে কোথাও গেট, সিগন্যাল বা গেটম্যান নেই। ফলে ট্রেন আসার সময় অনেকেই তা টের না পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রেললাইন পার হচ্ছেন।
সম্প্রতি এসব ক্রসিংকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। গত ২৭ মার্চ বিকেলে তালোড়া এলাকার দেবখণ্ডে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা ট্রেনের ধাক্কায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অল্পের জন্য প্রাণহানি এড়ানো গেলেও ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। চলতি বছরেই আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকটি রেল দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, অধিকাংশ ক্রসিংয়ে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড নেই। অনেক স্থানে রেললাইনের পাশে ঝোপঝাড় ও বাঁক থাকায় দূর থেকে ট্রেন দেখা যায় না। এতে করে হঠাৎ ট্রেন চলে এলে দুর্ঘটনা এড়ানোর সুযোগ থাকে না।
স্থানীয় বাসিন্দা কুতুব উল আলম বলেন, প্রতিদিন এই লাইন পার হতে গিয়ে ভয়ে থাকতে হয়। কোনো গেট বা সিগন্যাল নেই—সবই ভাগ্যের ওপর নির্ভর। আরেক বাসিন্দা রেশমি বেগম বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন এই লাইন পার হয়। সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি, কখন কী হয়ে যায়।
তালোড়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সোহাগ হোসেন বলেন, অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে সবাইকে সতর্ক হয়ে পারাপারের জন্য বলা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে গেট স্থাপন ও গেটম্যান নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে গেট স্থাপন, গেটম্যান নিয়োগ এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন