পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে গরু ও খাসির মাংস রান্নার প্রয়োজনীয় মসলার দোকানগুলোতে এখন উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষ। প্রয়োজনীয় মসলা কিনতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন।
উপজেলার প্রধান বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, জিরা, ধনিয়া, মরিচ, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গসহ প্রায় সব ধরনের মসলার দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ায় ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে মসলা বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা দিনমজুর আব্দুল করিম বলেন, কোরবানির সময় একটু ভালো রান্না করতে হয়। কিন্তু এখন মসলার যে দাম, তাতে সবকিছু কেনা খুব কঠিন হয়ে গেছে। সংসার চালাতেই কষ্ট, তার ওপর ঈদের বাড়তি খরচ।
একই ধরনের অভিযোগ করেন গৃহিণী রুবিনা বেগম। তিনি বলেন, আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার হতো, এখন সেই টাকায় অর্ধেকও হয় না। ঈদের আনন্দের চেয়ে চিন্তাই বেশি লাগছে।
খুচরা বাজারে বর্তমানে সাদা এলাচ প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ টাকা, কালো এলাচ ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৫৫০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪৫০ টাকা, গোলমরিচ ১ হাজার ২০০ টাকা, জিরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ধনিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, বাসমতি চাল ৪০০ টাকা, জায়ফল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং কিসমিস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মসলা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণেই খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। এছাড়া পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভর কিছু মসলার সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
দুপচাঁচিয়ার তে-মাথা মোড়ে অবস্থিত হৃষিকেশ স্টোরের মালিক বলেন, বর্তমান দামে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য মসলা কেনা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেকে বেশি দামের কারণে কিছু মসলা তালিকা থেকেই বাদ দিচ্ছেন।
এদিকে বাজারে বাড়তি দামের চাপে ঈদের প্রস্তুতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে খাদ্য পরিদর্শক মমতা রানী সাহা বলেন, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত তদারকি চলছে। ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ যেন দামে প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি।
ত্যাগ ও আনন্দের বার্তা নিয়ে কোরবানির ঈদ এলেও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে সেই আনন্দ অনেক পরিবারের কাছেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
-20260522150917.webp)

