ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে এবার থানায় অভিযোগ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। ছবি : সংগৃহীত

শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বহিষ্কারের পর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি জোটের ট্রাক প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেবিদ্বার থানায় লিখিত এ অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারী রাইসুল ইসলাম আখন্দ উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা এ কে এম আনোয়ার হোসেন আখন্দের ছেলে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঋণখেলাপির অভিযোগে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর তিনি ও তার অনুসারীরা ট্রাক প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে এলাকার সাধারণ ভোটারদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে গুনাইঘর ইউনিয়নের বাকসার বাজার এলাকায় বিএনপি জোটের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের জসিম উদ্দিনের এক নির্বাচনি বৈঠকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর দেওয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ট্রাক প্রতীকের পক্ষে ভোট দিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং অন্য প্রতীকে ভোট দিলে নির্বাচনের পর ভোটারদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক নির্বাচনি সভায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী প্রকাশ্যে এ ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালির মাধ্যমে ওই বক্তব্যকে সমর্থন করেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের এজাহারে সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ছাড়াও এলাহাবাদ গ্রামের মো. আ. জসিম উদ্দিন এবং বাকসার গ্রামের আবুল কালাম আজাদের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারজন প্রত্যক্ষদর্শীর নাম সাক্ষী হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৩ অনুচ্ছেদ এবং দণ্ডবিধির ১৭১(এফ), ৫০৬(২), ৩৪ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘হুমকির ঘটনায় সাধারণত জিডি করা হয়, সরাসরি মামলা হয় না। আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ আসন থেকে চারবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তার নামে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি এআই দ্বারা তৈরি এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় নীতি, আদর্শ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিএনপির সব পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।