ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। সহজ চাষ পদ্ধতি, কম সেচ, কম খরচে বেশি মুনাফা এবং বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ ফসলের চাষ। বর্তমানে ভুট্টা সংগ্রহে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২ হেক্টর বেশি।
সরকার এ চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদান করছে। রোগবালাই কম এবং উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন দিন ভুট্টা চাষের পরিমাণ বাড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার হীরাপুর, কুড়িপাইকা, লামারবাড়ি, আদমপুর, মনিয়ন্দ ও রানীখারসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। সারি সারি ভুট্টাগাছ দাঁড়িয়ে আছে, আর গাছে গাছে ঝুলছে ভুট্টার মোচা। কৃষকেরা ভুট্টা কাটা ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, ভুট্টা চাষে প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ২৫-২৬ মণ। স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ ভুট্টা ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, বেলে ও ভারী এঁটেল মাটি ছাড়া প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ভুট্টা চাষ সম্ভব। তবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকা উর্বর বেলে দো-আঁশ মাটি ভুট্টা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
ভুট্টা সেদ্ধ ও পুড়িয়ে খাওয়ার পাশাপাশি এর দানা গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ভুট্টা গাছ ও এর বিভিন্ন অংশ উন্নতমানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অবশিষ্ট অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এবং পোল্ট্রি শিল্পেও ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের কৃষক মো. শাহনেওয়াজ বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে এ মৌসুমে আড়াই বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি।
বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কৃষি অফিস থেকে পেয়েছি। এ জমিতে ভুট্টা চাষে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যার কারণে কোনো রোগবালাই হয়নি। ইতোমধ্যে ভুট্টা তোলার কাজ শুরু হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে ভুট্টা চাষ করছি। বাজারদর ভালো থাকলে এ মৌসুমে ১ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হবে। একই জমিতে ধান চাষ করলে ৪০ হাজার টাকার বেশি পাওয়া যেত না। তাই আগামীতে জমির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষক মো. দেওয়ান মোল্লা বলেন, ভুট্টা চাষ খুবই লাভজনক। এতে উৎপাদন খরচ কম এবং বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই গত কয়েক বছর ধরে তিনি এ চাষ করছেন।
তিনি জানান, এ চাষে সেচ ও কীটনাশক কম লাগে। ধান চাষে খরচ বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হয়। এ মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন এবং ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে ভুট্টা কাটা হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে সব খরচ বাদ দিয়ে ২০ হাজার টাকার বেশি আয় হবে।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে তারা সহজে উৎপাদন বাড়াতে পারেন। বিশেষ করে ভুট্টা চাষে আগ্রহী কৃষকদের উন্নত মানের বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন