× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. বাবুল মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

তেল নিয়ে তেলবাজি : অধিক মূল্যে মিলছে খোলাবাজারে

মো. বাবুল মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

খোলা বাজারে তেল মিলছে অধিক মূল্যে। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

খোলা বাজারে তেল মিলছে অধিক মূল্যে। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যে কয়টি তেল পাম্প রয়েছে, প্রায় সবকয়টিতেই তেলের সংকট চলছে বেশ কয়দিন যাবৎ। কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য সীমিত পরিমাণ তেল মিললেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক চালক ফিরছেন খালি হাতে। অনেক পাম্পের সামনে টাঙানো রয়েছে—‘তেল নেই’ বোর্ড। 

পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা বলছেন, সরবরাহ বন্ধ বা কমে গেছে। এমন চিত্র গত কয়েক দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে প্রশাসনের নামে মাত্র অভিযানে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। পাম্পে তেল না থাকলেও বিভিন্ন খুচরা দোকানে মিলছে হাজার হাজার লিটার তেল। এতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কারা তেল নিয়ে তেলবাজি করছে?

অভিযোগ রয়েছে, ‘তেল নেই’ লেখা পাম্পগুলোর সহায়তায়ই ঊর্ধ্বমূল্যে খুচরা দোকানে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাম্পে তেল না মিললেও জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন বাজারের পাশেই খোলা দোকানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হচ্ছে অবাধে। তেল মজুত রেখে বিক্রি না করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না অনেক ব্যবসায়ী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা নামেমাত্র বলেই অভিযোগ উঠেছে।

জেলার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা পেট্রোল পাম্পে সীমিত আকারে তেল পাওয়া গেলেও মির্জারপুর, আমতলী, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিলসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে খুচরা দোকানে পাওয়া যাচ্ছে অধিক মূল্যে জ্বালানি তেল। একইভাবে সদর উপজেলার ঘটুরা তিতাস ফিলিং স্টেশন, ভাদুঘর মেসার্স এম রহমান ফিলিং স্টেশন ও আশুগঞ্জের চিশতী ফিলিং স্টেশনসহ আশপাশের প্রায় সব পাম্পেই তেলের সংকট বিরাজ করছে। যদিও কিছু পাম্পে নির্দিষ্ট সময়ে তেল দেওয়া হচ্ছে, তবুও ভোগান্তির শেষ নেই। নিয়মিত তেল না পাওয়া গেলেও এসব পাম্প থেকেই তেল যাচ্ছে খুচরা দোকানগুলোতে—এমন অভিযোগও রয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পাম্পে তেল না পাওয়া গেলেও উপজেলার মোড়ে মোড়ে বোতলজাত অবস্থায় খোলা বাজারে তেল বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ চালকদের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু চক্র পাম্পের সঙ্গে যোগসাজশ করে তেল সরিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করছে। যেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল ১২০ টাকায় বিক্রির কথা, সেখানে তা ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অকটেন ১২৫ টাকার পরিবর্তে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়াও জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় একই চিত্র দেখা গেছে। সদর উপজেলার গোকর্ণঘাট এলাকায় মুদি দোকান, গ্যারেজ ও শ্রমিকদের আবাসস্থলে মিলেছে বিপুল পরিমাণ তেল। এর আগে নাসিরনগরে অভিযান চালিয়ে হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংকটে জেলা প্রশাসনের অভিযানে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে অস্থির পরিস্থিতি। পাম্পের বাইরে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি সড়ক ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবুও অধিকাংশ চালক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। যেসব পাম্পে সামান্য পরিমাণ তেল আসে, সেখানে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। একেকটি মোটরসাইকেল বা প্রাইভেটকারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মোটরসাইকেল চালক আরিফ হোসেন বলেন, ‘তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। অথচ পাশের দোকানেই সেই তেল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তদারকি করার কি কেউ নেই?’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাইদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেখানে তেল মজুদ করা হচ্ছে, সেখানে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে।’

Link copied!