× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ১০:২৪ এএম

অবৈধ ড্রেজার পাইপের ঝুঁকিতে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ১০:২৪ এএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দেশের অন্যতম বৃহৎ মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ করে একাধিক স্থানে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে বর্ষা মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও ড্রেজার মালিকদের ভয়ে প্রকাশ্যে নাম বলতে রাজি নন। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত এসব পাইপ অপসারণের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধি এলাকা থেকে মোহনপুর ইউনিয়নের পর্যটন কেন্দ্রের দক্ষিণে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় অন্তত তিনটি স্থানে বাঁধের নিচে সুড়ঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। আগে এসব পাইপ সড়কের ওপর দিয়ে নেওয়া হলেও প্রশাসনের অভিযানের পর নতুন কৌশলে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে স্থায়ীভাবে পাইপ বসানো হয়েছে।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পশ্চিম পাশে মেঘনা নদী এবং অন্য তিন পাশে ধনাগোদা নদী থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনা ও পাইপ স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনুমতি ছাড়াই নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য এসব পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সুগন্ধি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ড্রেজার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান তারা। তবে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, সুগন্ধি এলাকায় হাসান নামে এক ব্যক্তি ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করেছেন। অন্যদিকে মোহনপুর এলাকায় কারা পাইপ বসিয়েছেন, সে বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। তাদের দাবি, ড্রেজার মালিকরা রাতে নদীতে অবস্থান করে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার সময়ে বাঁধের কোথাও ফাটল বা ধস দেখা দিলে হাজার হাজার কৃষক, বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে প্লাবিত হতে পারে। অথচ এমন ঝুঁকির মধ্যেও অবৈধ পাইপ অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বহুবার এসব ড্রেজার পাইপ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা পুনরায় স্থাপন করছে। আমরা সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, যাতে এসব স্থানে স্থায়ীভাবে পাইপ বসানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা ড্রেজার মালিকদের পরিচয় না দেওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করলেও বাঁধের নিচে সুড়ঙ্গ করে পাইপ স্থাপনের বিষয়টি দৃশ্যমান হওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সেচ প্রকল্প।

চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, বিষয়টি জেনেছি। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!