চাকরিচ্যুত এক ব্যাংক কর্মকর্তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও ক্ষোভ। বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত আবদুল আজিজ (৪৫) ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত আবদুল আজিজ পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ওয়াহিদুর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আবদুল আলমের পুত্র। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে কুমিল্লার লালমাই রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
পরিবারের দাবি, দুর্বৃত্তরা চলন্ত ট্রেন থেকে আজিজকে ফেলে দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর তার দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহতের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। একজন শিক্ষিত ব্যাংক কর্মকর্তা, যিনি চাকরি হারিয়ে জীবিকার অনিশ্চয়তার মধ্যেও ঘরে ফেরার পথে ছিলেন—এমন নির্মম পরিণতির শিকার হবেন, তা যেন কেউই মেনে নিতে পারছেন না।
প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে একই ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন নিহতের প্রতিবেশী মোহাম্মদ খোকন। তিনি বলেন, 'আজিজ ভাই ট্রেনের ছাদের ওপর ছিলেন। লাকসাম স্টেশনের কাছে ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারী বলে ঝামেলা হচ্ছে—এমনটা টের পেয়েছিলাম। তবে ট্রেন চলন্ত থাকায় নিচ থেকে স্পষ্ট কিছু দেখা যাচ্ছিল না। পরে জানতে পারি, তাকে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।'
এদিকে, নিহত আবদুল আজিজ চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ‘চাকরিচ্যুত ব্যাংকার ফোরাম’-এর একজন অ্যাডমিন ছিলেন বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুতে সহকর্মী ব্যাংকারদের মাঝেও নেমে এসেছে গভীর শোক।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পটিয়ার সংসদ সদস্য প্রার্থী এনামুল হক এনামের সঙ্গে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পটিয়া ক্লাব মাঠে আয়োজিত ওই সভায় নিহত ব্যাংকার আবদুল আজিজের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ব্যাংকাররা। তাদের দাবি আজিজকে পরিকল্পিতভাবে কেউ হত্যা করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ‘ছিনতাইকারী, ছিনতাইকারী’ বলে চিৎকার করছেন, যা ঘটনাটিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

