দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে প্রার্থিতা ও প্রতীক ফিরে পেয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক প্রচারে নেমেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে তাকে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন। আদালতে সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ একদল আইনজীবী। আদেশের পর আইনজীবী ইউসুফ আলী মাসুদ জানান, সরওয়ার আলমগীরের নির্বাচনে অংশগ্রহণে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
উল্লেখ্য, এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে একটি লিজিং কোম্পানির স্থিতি আদেশ জমা দেওয়ার পর ইসি এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সরওয়ার আলমগীর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতও তাকে ঋণখেলাপি না বলার আদেশ বহাল রাখেন।
আদালতের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই ফটিকছড়ির দাঁতমারা, হেঁয়াকো বাজার, শান্তিরহাট, বাগানবাজার ও নারায়ণহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন সরওয়ার আলমগীর। এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তার সাথে যোগ দেন।
পথসভায় সরওয়ার আলমগীর বলেন, 'একটি নির্দিষ্ট দল আমাদের হাইকোর্টে আটকে রেখে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন সফল হবে না। ফটিকছড়ির মানুষ ধানের শীষের ঘাঁটি রক্ষা করতে জানে। ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমেই এর জবাব দেওয়া হবে।'
তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমালোচনা করে আরও বলেন, 'ধর্মকে পুঁজি করে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, ফটিকছড়িবাসী তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী, যা আজ আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।'
প্রচারে উপস্থিত ছিলেন রকিবুল আলম চৌধুরী পিটু, আবু মেম্বার, আবুল খায়ের, শফিউল আজম ও একরামুল হকসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

