ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গ্রাম ডাক্তার সমিতির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযানের আশঙ্কায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আনোয়ারা উপজেলা গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট সমিতির নেতা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে উপজেলার সব পল্লিচিকিৎসক, ফার্মেসি মালিক ও ফার্মাসিস্টদের জানানো হয়—এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে সাইনবোর্ড, ব্যানার, হ্যান্ডবিল কিংবা ব্যবস্থাপত্রে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনোয়ারা’ লেখা, নিজেকে বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। নির্দেশনায় চিকিৎসা কার্যক্রমে রেফারেল পদ্ধতি অনুসরণ এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার কথাও উল্লেখ করা হয়।

এ বিজ্ঞপ্তির পর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে আনোয়ারা উপজেলা গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সভাপতি কংসরাজ দত্ত, সাধারণ সম্পাদক সজল দাস, অর্থ সম্পাদক শম্ভু রঞ্জন দত্ত ও সহসভাপতি পি কে দাশ বাবুল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ বিষয়ে একাধিক অডিও রেকর্ডে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পল্লিচিকিৎসক দাবি করেন, সমিতির শীর্ষ চার নেতা সমিতির সাধারণ সদস্যদের না জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। ওই অডিওতে বলা হয়, আমরা তো কোনো অবৈধ বা নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করি না। তাহলে কেন ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে।

অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আনোয়ারা উপজেলা গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সজল দাস। তিনি বলেন, আপনাকে কে এসব কথা বলেছে, আপনি কীভাবে জানলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা কোনো টাকা দেয়নি। আমরা শুধু পরামর্শ নিতে গিয়েছিলাম।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সকালে আনোয়ারা ডাক্তার কল্যাণ সমিতির কয়েকজন প্রতিনিধি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। কে এ কথা বলেছে, জানালে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি।