ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীর ভরাডুবি, জামানত বাজেয়াপ্ত

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৯:২০ এএম
হাসান আরিফ (এনসিপি )। ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একমাত্র প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের ভরাডুবি হয়েছে। মোট ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ ভোটার থাকা এ আসনে তিনি পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯০৬ ভোট, যা মোট ভোটারের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ।

এই আসনে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট।

চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও বোয়ালখালীর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, আসনটিতে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসেবে চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামানত রক্ষা করতে প্রার্থীকে কমপক্ষে ২০ হাজার ৪৯০ ভোট পেতে হতো। এনসিপি প্রার্থী পেয়েছেন ২ হাজার ৯০৬ ভোট। ফলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

শুধু এনসিপি প্রার্থীই নন, এ আসনে আরও দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আলম (১ হাজার ১৮৮ ভোট) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক (৮৭০ ভোট)।

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের ফলাফল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। বাকি দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।

বিএনপির বিজয়ীরা হলেন—চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আমীর খসরু মাহমুদ, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) মো. এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) জসিম উদ্দিন আহমেদ।

জামায়াতের বিজয়ীরা হলেন—চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) জহিরুল ইসলাম।

সার্বিকভাবে চট্টগ্রামে বিএনপির একচ্ছত্র প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অধিকাংশ আসনেই তারা বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে, যা এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।