চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক কিশোরী গৃহকর্মীকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর ও অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পপি আক্তার (১৫) থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের এম এস ছবুর হাসানের স্ত্রী শারমিন হাসান (৩৯) এবং তার কন্যা আফসা নিশা (১৬)। তারা বটতলী এলাকায় ‘মাশাআল্লাহ শশী বিউটি পার্লার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।
অভিযোগে পপি আক্তার জানিয়েছেন, ছয় মাস আগে তিনি ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে যোগ দেন। কাজের সময় বিভিন্ন অজুহাতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
এ ছাড়া ছয় মাসের বেতন বাবদ তার পাওনা ১৮ হাজার টাকা রয়েছে। বকেয়া বেতন দাবি করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হতো।
পপি আক্তার আরও বলেন, চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হন। একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে মার্কেটে আগুন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তাকে প্রলোভন দেখানো হয়।
রাজি না হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক ‘চুরির স্বীকারোক্তি’ দিতে বাধ্য করা হয় এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে সামাজিকভাবে তিনি হেয়প্রতিপন্ন হন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আনোয়ারাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ‘মাশাআল্লাহ শশী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিও ছড়ানো হয়, যা নেটিজেনদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত শারমিন হাসান (৩৯) বলেন, ‘আমার বাসায় কোনো মেয়ে কাজ করত না। তবে আমি একজন আশ্রয়হীনা মেয়েকে আশ্রয় দিয়েছি। পরে চুরি এবং অন্যান্য বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগে তাকে ঘর থেকে বের করা হয়েছে।’
আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, অভিযোগটি হাতে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন