চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। অন্যদের রিপোর্ট এখনো না আসায় তাদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ১৫ বছরের নিচের শিশু।
সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে আরও ৪ জন ভর্তি আছে।
হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি শিশুদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে পৃথক কর্নার চালু করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলার দুই শিশুর শরীরে ইতোমধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। অন্য শিশুদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা কাশি-হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরবর্তীতে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের প্রধান লক্ষণ।
শিশুদের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় সময়মতো এমএমআর টিকা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, টিকা থেকে বাদ পড়া (ড্রপআউট) শিশুদের খুঁজে বের করতে হবে।
এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় গত ২৪ মাসে এমএমআর টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হলে দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন