ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কর্নেল অলি’র বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল, বিএনপি মহাসচিবের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন ছেলে

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
গত ৪ এপ্রিল এলডিপির প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল করা হয়। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ ও অবাঞ্ছিত ঘোষণার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি। এ ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়ে বিএনপির মহাসচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য পুত্র ওমর ফারুক।

রোববার (৫ এপ্রিল) পাঠানো ওই চিঠিতে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এতে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া কলেজ গেট এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে অলি আহমদকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয় এবং তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা যায়, একই সময়ে ‘এলডিপির আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’সহ উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয় এবং ওমর ফারুকের নাম ও ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড ভাঙচুর করা হয়।

এলডিপির দাবি, অলি আহমদের বিরুদ্ধে যে ‘কটূক্তি’ বা ‘ইতিহাস বিকৃতির’ অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তার নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য, তারিখ, স্থান বা প্রেক্ষাপট কোথাও উল্লেখ করা হয়নি।

চিঠিতে চারটি বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এগুলো হলো—
অলি আহমদের কোন বক্তব্যকে কটূক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, সেই বক্তব্যের পূর্ণ বিবরণ, এ ধরনের কর্মসূচির পেছনে বিএনপির দলীয় অনুমোদন ছিল কি না এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ কর্মসূচিকে সমর্থন করে কি না।

এ ছাড়া চিঠিতে বলা হয়, অভিযোগগুলো নির্দিষ্ট প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত না হলে তা একজন সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে মানহানি, উসকানি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের শামিল হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুক বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন।

অলি আহমদ একসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে নিয়ে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চারবার এবং পরবর্তীতে এলডিপির প্রার্থী হিসেবে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।