ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ তদারকিতে চসিক মেয়র

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঈদের নামাজের পর কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকিতে নেমেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া পশু কোরবানির পর বর্জ্য অপসারণের কাজও শুরু হয়।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়েছে। নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরাহ করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য ভরে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

তিনি জানান, বেলা ২টা থেকে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, তাদের আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হবে। নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। এ বিষয়ে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা জানান, ডাম্প ট্রাক, পে-লোডার, ভ্যানসহ ৩৭৯টি যানবাহনের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই জোনে ভাগ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ ভ্যানগাড়ি ও ৪১টি ডাম্প ট্রাক নিয়ে ৩ হাজার ২০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী বর্জ্য অপসারণে কাজ করছেন।

উত্তর ও দক্ষিণ জোনের ২২টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ফেলা হবে আরেফিন নগরের আবর্জনাগারে। আর পতেঙ্গা-বন্দর এলাকার ১৯টি ওয়ার্ডের বর্জ্য নেওয়া হবে হালিশহর আবর্জনাগারে।

প্রণব কুমার শর্মা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব বর্জ্য পরিষ্কার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক ও অলিগলি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে গাড়িতে তোলা হচ্ছে। অনেক স্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে পানি দিয়ে রক্ত পরিষ্কার এবং ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে বেলা ২টা থেকে পুরোদমে পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ছয় ঘণ্টার মধ্যে পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। কাজীর দেউড়ি বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।