চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বালুবোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে সিলেটগামী ট্রেনের সংঘর্ষে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর হাইওয়ে ও রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপটি উদ্ধার করা হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রোববার (৭ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় দরবারটিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
জানা গেছে, জোরারগঞ্জের দরবারটিলা এলাকায় একটি অবৈধ রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় বালুভর্তি একটি পিকআপ রেললাইনে আটকে পড়ে। এ সময় ট্রেনটি কাছে চলে এলে চালক ও তার সহকারী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে যান। পরে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস পিকআপটিকে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং প্রায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপটি উদ্ধার করে। এরপর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী রহিম উদ্দিন বলেন, এই দুর্ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী পিকআপ চালক। গাড়িটি রেললাইনের কাছে আসার সময় আমি তাকে বলেছিলাম ট্রেন আসছে। কিন্তু তিনি আমার কথা না শুনে গাড়ি রেললাইনের ওপর তুলে দেন। পরে সেটি সেখানে আটকে যায়। চালকের গাফিলতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ট্রেনের যাত্রী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলাম। জোরারগঞ্জ এলাকায় পৌঁছানোর পর একটি বিকট শব্দ শুনে ট্রেনের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিছু দূর গিয়ে ট্রেনটি থামলে অনেকেই দ্রুত নিচে নেমে আসেন। তবে ট্রেনে থাকা কোনো যাত্রী আহত হননি।
চিনকি আস্তানা স্টেশনের স্টেশনমাস্টার সিরাজুল ইসলাম বলেন, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি বালুবোঝাই পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে পিকআপটি ট্রেনের সঙ্গে আটকে থাকায় সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপটি সরিয়ে নেওয়ার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

