দীর্ঘ ২৭ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার রেমিট্যান্স যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম।
রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে মরদেহ দুটি তাদের নিজ গ্রামে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
এর আগে, শনিবার (৬ জুন) গভীর রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় তাদের মরদেহ। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠু জানান, শনিবার গভীর রাতে বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের কাছ থেকে নিহতদের স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন। রবিবার জোহরের নামাজ শেষে নিজ নিজ গ্রামে তাদের দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় নিজ আবাসস্থলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (২০)। মৃত্যুর দীর্ঘ ২৭ দিন পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাদের মরদেহ দেশে আনা হলো।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, খুলনার সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ খালেদুর রহমান জানান, প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পরপরই বিমানবন্দরেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাফন-কাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু তারা বৈধভাবে বিদেশে গিয়েছিলেন, সেজন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ৩ লক্ষ টাকা এবং জীবন বীমা থেকে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা পাবেন। অর্থাৎ ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তারপরে যারা বৈধভাবে বিদেশ গিয়েছেন, তারা প্রত্যেকে মোট ১৩ লক্ষ টাকা করে পাচ্ছেন। সাতক্ষীরার নিহত দুই প্রবাসী শফিকুল ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম এবং আহত অপর প্রবাসী শুভজিতের পরিবারও নিয়ম অনুযায়ী এই ১৩ লক্ষ টাকা করে পাবেন।

