× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. সাহাব উদ্দিন, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের ৩৪ পাহাড়ে ধসের শঙ্কা

মো. সাহাব উদ্দিন, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

টানা ভারী বর্ষণ ও মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে আবারও পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার ৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করছে এক লাখেরও বেশি মানুষ। সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রশ্ন উঠেছে, বর্ষা এলেই প্রশাসনের তৎপরতা বাড়লেও বছরের বাকি সময়ে পাহাড়ে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব কেন।

পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর সরকারি ও বেসরকারি ৩৪টি পাহাড়ে বিপজ্জনক অবস্থায় বসবাস করছে এক লাখেরও বেশি মানুষ।

জেলা প্রশাসনের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, নগরীর ২৬টি সরকারি ও বেসরকারি পাহাড়ে রয়েছে ৬ হাজার ৫৫৮টি অবৈধ স্থাপনা। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন ১৬টি পাহাড়ে বসবাস করছে ৬ হাজার ১৭৫টি পরিবার এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে রয়েছে আরও ৩৮৩টি পরিবার।

বায়েজিদ লিংক রোড, সলিমপুর, আকবর শাহ, অক্সিজেন, রৌফাবাদ, লালখান বাজারের মতিঝর্ণা এবং ফয়'স লেক এলাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন ফয়'স লেকের ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে বসবাস করছে ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার। রেলওয়ের আরও কয়েকটি পাহাড়েও শত শত পরিবার বসবাস করছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু মতিঝর্ণা, টাংকির পাহাড়, বাটালি হিল ও টাইগারপাস এলাকাতেই ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের বসবাস।

পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা বলছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর পাহাড় দখল করে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। পরে সেগুলো নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের অভাবেই অবৈধ বসতি পুরোপুরি উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১১ জুন ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জন নিহত হওয়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও অবৈধ বসতির তালিকা প্রণয়ন শুরু হয়। এরপর গত ১৭ বছরে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় পাহাড়ধসে মোট ২৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৩ সালে ষোলশহরের আইডব্লিউ কলোনিতে পাহাড়ধসে বাবা ও সাত মাস বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়। একই বছর আকবর শাহ এলাকায় আরও একজন নিহত হন। এর আগে ২০২২ সালে আকবর শাহ ও ফয়'স লেক এলাকায় পাহাড়ধসে চারজন নিহত হন। এছাড়া ২০০৮, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও বিভিন্ন পাহাড়ধসে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বাড়ায় সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসন নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং শুরু করেছে। এর আগে রোববার রাতেও সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।

আকবর শাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর, বেলতলীঘোনা, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন পাহাড়, মতিঝর্ণা, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান এবং উত্তর হালিশহর উপকূলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেতের পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় মাইকিং করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!