জীবননগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমিনকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক দাপ্তরিক আদেশে তাকে জীবননগর থেকে প্রত্যাহার করে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় ইউএনও হিসেবে বদলি করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন ২০.০১.২০২৬ মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এক পত্রে বদলির এ আদেশ দেন।
ওই আদেশে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ‘লিটন কুমার দে’ কে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর পূর্বে, গত ১০ ডিসেম্বর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি স্বাক্ষরিত পত্রে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিনসহ ৬ জনকে দুই দফায় বদলি করা হয়।
আল-আমিনকে একবার কুষ্টিয়ার মিরপুরে, পরেরবার একই জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় ইউএনও হিসেবে বদলি করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওইদিন রাতেই অন্য এক আদেশে বদলি আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে একদিনে দুইবার বদলি ও বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হয় তা জানা যায়নি।
এ দিকে, ইউএনও আল-আমিনকে জীবননগর থেকে প্রত্যাহার করা হলে জীবননগর উপজেলাবাসীর মধ্যে খুশির বন্যা বইছে। এ ছাড়াও ইউএনওর বদলির খবর ছড়িয়ে পড়লে জীবননগর পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বিদায়ী ইউএনওর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্ব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বিসিএস ৩৬ ব্যাচের এ কর্মকর্তা গত বছরের ২৩ অক্টোবর জীবননগরে ইউএনও হিসেবে যোগদান করেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
তার বিরুদ্ধে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হয়।
এর মধ্যে : ১৩ মার্চ: মাছরাঙ্গা টেলিভিশন, মাইটিভি ও জাগোনিউজে – ‘সাংবাদিককে অফিসে ডেকে শাসালেন ইউএনও’, ১২ মার্চ: দৈনিক সময়ের সমীকরণ, আমাদেরসময়.কমে –‘জীবননগরে মাদকের বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশ হওয়ায় ইউএনও ক্ষিপ্ত! সাংবাদিককে ডেকে লাঞ্ছিত’, ৬ জুন: জাগোনিউজ – ‘দৈনিক সময়ের সমীকরণে পার্ক ভরাটের বরাদ্দ পিআইসির নামে, বিল নিয়ে নয়-ছয় ইউএনওর’, ১৮ জুন: দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় –‘জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ৮১ লাখ টাকা নয়-ছয় অভিযোগ’, ১৮ জুন: আমাদেরসময় পত্রিকায় –‘ইউএনওর বিরুদ্ধে ৮১ লাখ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ’, ৪ জুন: দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকায় –‘সরকারি বিল থেকে বালি তুলে পার্ক ভরাট, উন্নয়নের নামে পিআইসির মাধ্যমে টাকা তুলে আবার ফেরত দিলেন ইউএনও!’
একইদিন: গ্রামের কাগজ পত্রিকায় –‘জীবননগরে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ’।
প্রকাশিত এসব সংবাদের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে ইউএনওর বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্ত করা হয়। তদন্তে ইউএনওর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
তবে, ইউএনও তদন্ত রিপোর্ট তার পক্ষে নেওয়ার জন্য চুয়াডাঙ্গার সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার বিরুদ্ধে আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন