সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট এবং পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
এ সময় মিয়ানমারে পণ্য পাচারের অন্যতম মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহকেও (৪০) আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুমন আল মুকিত।
তিনি জানান, ২৭ এপ্রিল সোমবার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত সিমেন্টসহ পাচারকারীদের আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আটক বোটের মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল ৫টায় কোস্ট গার্ড ও র্যাব-১৫ (সিপিসি-২)-এর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী এলাকা থেকে মিয়ানমারে পণ্য পাচারের অন্যতম মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহকে (৪০) আটক করা হয়।
আটক আজিম উল্লাহ কক্সবাজারের উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তিনি মিয়ানমারে অবস্থানকারী আনোয়ার নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে পণ্যের চাহিদা নিয়ে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার অসাধু বোট মালিকদের সহযোগিতায় সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র কাছে এসব পণ্য পাচার করতেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, পাচারের বিনিময়ে তিনি প্রায়ই মাদক, বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করতেন। তার মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর কোস্ট গার্ড ও র্যাবের সমন্বিত অভিযানে এই পাচার সিন্ডিকেটের মূলহোতা আজিম উল্লাহকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলছে। জব্দকৃত সিমেন্ট, বোট এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


