কক্সবাজারের পেকুয়ায় ঘরের গ্রিল কেটে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
এ সময় ডাকাতদের হামলায় গৃহবধূ ও তার ভাসুর গুরুতর আহত হন। ডাকাতরা নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
এতে আহতরা হলেন সৌদি প্রবাসী আমির হোসেনের স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৪৫) এবং তার বড় ভাই জাকের হোসেন (৬৫)। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে একদল মুখোশধারী ডাকাত বাড়ির সিঁড়ির পাশের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে দরজা ভেঙে শয়নকক্ষে ঢুকে গৃহবধূ রোজিনা আক্তারকে জিম্মি করে আলমারির চাবি দাবি করে। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতরা লোহার ভারী বস্তু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। এরপর তারা ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে।
রোজিনা আক্তার জানান, তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠে সিঁড়ির দিক থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান। এগিয়ে গিয়ে দেখেন কয়েকজন ব্যক্তি জানালার গ্রিল কাটছে। আতঙ্কিত হয়ে তিনি রান্নাঘরের দরজা খুলে পাশের বাড়িতে থাকা ভাসুরকে ডাকতে গেলে ৩-৪ জন ডাকাত রান্নাঘরের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে তাকে জিম্মি করে।
তিনি বলেন, ডাকাতদের সবার মুখে মুখোশ ছিল। ঘরের বাইরে আরও কয়েকজন অবস্থান করছিল এবং তারা নিজেদের মধ্যে ডাকাডাকি করছিল। পরে তারা নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে পাশের বাড়ি থেকে ছুটে আসেন জাকের হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি একজনকে আটকানোর চেষ্টা করলে অন্য সদস্যরা লোহার খুন্তি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আমির হোসেনের ভাতিজি ও প্রতিবেশী ইসমত আরা কলি বলেন, চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও ডাকাতদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় কেউ সামনে এগোতে পারেনি। ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার পর আহত দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, এ ধরনের দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডাকাতদল প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বাড়িতে অবস্থান করে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালায়।
আমির হোসেনের নিকট আত্মীয় মিজবাহ জানান, থানায় এই বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবে বলে জানান।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, পেকুয়ায় আবদুল হামিদ সিকদার পাড়ার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, টেটংয়ের ঘটনার বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই। আমি বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।

