কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে- এমন সন্দেহে এক যুবদল নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কথিত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের দক্ষিণ বেতিয়ারা (প্রকাশ সোনাপুর) গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মানিকের সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা মো. মোস্তফার বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। রোববার রাতে মো. মানিক বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কেউ তার অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে থাকেন। গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মানিক নির্বাচনী প্রচারণার কাজে পাশ্ববর্তী সাতঘরিয়া রাস্তার মাথায় অবস্থানকালে মোস্তফা মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেন।
মানিক অভিযোগ করেন, একই দিন দক্ষিণ বেতিয়ারা গ্রামে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফুল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এ ঘটনায় মোস্তফা সন্দেহ করেন, পুলিশ অভিযানের পেছনে মানিকের ভূমিকা রয়েছে। এ সন্দেহ থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি সুযোগ পেলে হত্যা, লাশ গুম, মিথ্যা মামলা দায়ের ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল জানান, ‘৩০ জানুয়ারি মোস্তফার বাড়িতে ইয়াবা সেবনকালে আলকরা এলাকার এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোস্তফার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।



