ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

চৌদ্দগ্রামে ব্যবসায়ী অপহরণ করে চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ২

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক ফল ব্যবসায়ীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আটক রেখে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বখাটেদের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে দিনভর শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

নির্যাতনের শিকার মো. এয়াছিন (৪০) ফেনী সদর উপজেলার অলুকিয়া গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফুটপাতে ফল ব্যবসা করে আসছেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার লক্ষীপুর গ্রামের জিল্লুর রহমান (৩০) মোবাইল ফোনে এয়াছিনের কাছে ২০০ টাকা ধার চান। পরে কৌশলে তাকে চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে পারাবত স্কুলের সামনে আসতে বলেন। সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে জিল্লুর রহমান ও সোহাগ প্রকাশ মুন্না (২৭)সহ আরও তিনজন তাকে জোরপূর্বক একটি পরিত্যক্ত স্কুল ভবনের কক্ষে নিয়ে আটক করেন।

এ সময় তারা এয়াছিনের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

পরে জ্ঞান ফিরলে এয়াছিন পালানোর চেষ্টা করলে পুনরায় তাকে ধরে মারধর করা হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় জিল্লুর রহমান ও সোহাগ প্রকাশ মুন্নাকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর তিনজন— রাহিম (২৬), মনির (২৫) ও টুটুল (৩০) পালিয়ে যায়।

উদ্ধারের পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এয়াছিনকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এয়াছিন বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি আবু মাহমুদ কায়সার হোসেন জানান, ‘টাকা ধার দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে ব্যবসায়ীকে আটক করে চাঁদা দাবি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’