কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় নারী সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটেরও ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একাধিক বসতঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রাম ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাপুর গ্রামের এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীর মেয়ের সঙ্গে মাসকরা গ্রামের এক যুবকের দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে সোনাপুরের লোকজন মারধর করে। এ সময় ‘ডাকাত ঢুকেছে’ এমন ঘোষণা দিলে আশপাশের মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে এসে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এ ঘটনায় সোনাপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এর জের ধরে শনিবার বিকেলে সোনাপুর গ্রামের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মাসকরা গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ২০টি বাড়িঘর ও দুটি দোকানে ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। পরে পাল্টা হামলায় মাসকরা গ্রামের লোকজন সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করলে চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মিলন মিয়া জানান, আগুনে তাদের ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং বিপুল পরিমাণ ধান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অন্যদিকে মাসকরা গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সোনাপুরের লোকজন প্রথমে তাদের গ্রামে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে।
ওসি আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন জানান, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

-20260405145636.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন