ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

সাভারে ৩ সাংবাদিকের ওপর হামলা: প্রধান আসামি শামীম রেজার দুই দিনের রিমান্ড

সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সাভারে তিন সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলার মামলার প্রধান আসামি শামীম রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালতে তাকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকা থেকে শামীম রেজাকে তার দুই সহযোগী ফেরদৌস আহমেদ রাজু ও রাকিব হোসেনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শামীম রেজা শুধু মাদক কারবারের সঙ্গেই জড়িত নন, তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র মামলা, ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এছাড়া সহযোগী ফেরদৌস আহমেদ রাজুর বিরুদ্ধেও রয়েছে পাঁচটি মামলা। রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম।

উল্লেখ্য, গত ২২ মে সাভারের আইচা নোয়াদ্দা এলাকায় মাদকসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে যান দেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন, ক্যামেরাপারসন মনিরুল হক কাইয়ুম এবং এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা তিন সাংবাদিককে জিম্মি করে স্থানীয় একটি গ্যারেজে নিয়ে যায় এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর ও নির্যাতন চালায়। এ সময় দেশ টেলিভিশনের গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় এবং ক্যামেরা, মেমোরি কার্ড ও ট্রাইপড ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ঘটনার পর চারজনকে আটক করা হলেও মূল হোতা শামীম রেজাসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় শামীমকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সাভার মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীসহ চার পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সেই থেকে সাভার মডেল থানার ওসি পদটি শূন্য রয়েছে।